২০ কিলোমিটার অবৈধ গ্যাসলাইনে পুনঃসংযোগ!

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০১৯, ২১:৩০

চান্দিনায় ২০ কিলোমিটার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার মাত্র দেড় মাসের মধ্যে আবারও ঐ লাইনে গ্যাস সংযোগ করা হয়েছে। রবিবার রাতের অন্ধকারে ঐ সংযোগটি প্রদান করেন কথিত ঠিকদার। তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা থাকার পরও গত ১৫ দিন যাবত্ চুলা প্রতি ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা আদায় করে অবৈধ ঐ গ্যাস সংযোগ দেন। আর ২০ কিলোমিটার অবৈধ গ্যাস লাইনের পুনঃসংযোগ চালু করায় চান্দিনা উপজেলার সাতটি গ্রামের অন্তত ৪ হাজার চুলায় অবৈধ গ্যাস জ্বলছে। সোমবার দুপুর থেকে চান্দিনা উপজেলার মাধাইয়া ইউনিয়নের নাওতলা, কুটুম্বপর, মীরগঞ্জ, বাখরাবাদ, মুরাদপুর, নাজিরপুর, হাসিমপুর গ্রামে গ্যাস পুনঃসংযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন একাধিক সুবিধাভোগীরা।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে একাধিক বাসিন্দা জানান, গত ১৭ জুন বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী অভিযান চালিয়ে মাধাইয়া ইউনিয়নের কুটুম্বপুর সামিট পাওয়ার প্ল্যান্টের পেছন থেকে ২০ কিলোমিটার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। সে সময় অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে মাত্র ১০০ গজের মধ্যে অবস্থতি গ্যাস সরবরাহ (টিবিএস) স্টেশন থেকে ৬ ইঞ্চি পাইপের গ্যাস লাইন বন্ধ করে ঐ অভিযান পরিচালনা করা হয়। আবার সংযোগ দিতেও ঐ ৬ ইঞ্চি পাইপের গ্যাসলাইন বন্ধ করে সংযোগ দিতে হয়েছে। সে ক্ষেত্রে গ্যাস অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যোগসাজশ ছাড়া ওই লাইন বন্ধ করে সংযোগ প্রদান করা সম্ভব নয়।

চান্দিনার কুটুম্বপুরে অবস্থিত গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লি. (জিটিসিএল) এর অধীনস্থ টিবিএসের সহকারী কর্মকর্তা আজিবর রহমান জানান, গ্যাস বিতরণের কাজ আমাদের নয়। আমরা বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিকে গ্যাস সরবরাহ করি। বিতরণ করার দায়িত্ব ওই কোম্পানীর। লাইনের নিরাপত্তা ও বিতরণ করা তাদের দায়িত্ব। বিতরণ কোম্পানির কে জড়িত বা কারা জড়িত সেটা কেবল ওই কোম্পানি কর্তৃপক্ষই বলতে পারেন।

বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির উপ-মহাব্যবস্থাপক (এসএন্ডএস) মো. হেলাল উদ্দিন শিকদার বলেন, অবশ্যই আমাদের কোম্পানির কেউ না কেউ জড়িত আছে। তা না হলে গ্যাস লাইন বন্ধ করা সম্ভব নয়। বিষয়টি আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও অবহিত করেছি। গ্যাস লাইন বন্ধ করে অবৈধ সংযোগের সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে কারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবুল ফয়সল জানান, কথিত ঠিকাদার শাহজাহানকে গ্রেফতার করতে আমাদের অভিযান চলছে। শিগগিরই তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হবো। তবে অভিযানে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সময় বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিলেন কয়েক দিনের মধ্যে সকল পাইপ উচ্ছেদ করা হবে। কিন্তু দেড় মাস অতিক্রম হওয়ার পরও তারা পাইপ উঠায়নি। এতে সুবিধা পেয়েছে শাহজাহান। আর সেই সুবিধাটি পরোক্ষভাবে বাখরাবাদই দেয়।