জামালপুর জেলা জুড়ে এখন বইছে নির্বাচনি হাওয়া। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, এবি পার্টিসহ বেশ কয়েকটি দল রয়েছে ভোটের মাঠে। তবে জেলার পাঁচটি আসনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে তিনটি আসনে। বাকি দুটি জামালপুর সদর ও সরিষাবাড়ী আসনে বিএনপির প্রার্থীর বিপরীতে অন্য দলের শক্তিশালী প্রার্থী না থাকায় অনেকটাই নির্ভার রয়েছেন দলটির দুই প্রার্থী।
জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) :এই আসনে এবার বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির কোষাধ্যক্ষ এবং দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকা এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এমপি থাকার সময়ে দুই উপজেলার উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন করায় তার ভোট ব্যাংক বেশ সমৃদ্ধ। তবে গত ১৯ নভেম্বর এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দেন বকশীগঞ্জের চার বারের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ তালুকদার। সম্প্রতি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে যোগ দিয়েছেন তিনি। এরপর থেকেই পালটে যেতে শুরু করেছে ভোটের মাঠের হিসাব-নিকাশ। বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং পুরো উপজেলা জুড়ে তালুকদার বংশের প্রভাবসহ নানা কারণে জনপ্রিয় নেতা তিনি। বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন তালুকদার বাবুল তার ভাই। সেই সুবাদে আওয়ামী পরিবারের ভোট চলে যেতে পারে তার থলেতে। অন্যদিকে বকশীগঞ্জ উপজেলায় বিএনপি নেতা সাবেক আইজিপি আব্দুল কাইয়ুম মনোনয়ন না পাওয়ায় তার অনুসারীদের ভোটগুলোও পেতে পারেন তিনি। এছাড়া ৫ আগস্টের পর দেওয়ানগঞ্জে বিএনপির রাজনীতিতে পিছিয়ে পড়া ত্যাগী নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করায় কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন আব্দুর রউফ তালুকদার। আর এই আসনে পৃষ্ঠা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও সাবেক জেলা আমির অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ নাজমুল হক সাঈদী। দলীয় ভোট, সাধারণ ভোটারদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা ও নির্বাচনি কৌশল জানা থাকায় নির্বাচনি মাঠে প্রভাব ফেলবেন তিনিও।
জামালপুর-২ (ইসলামপুর) :এই আসনটিতে এবার বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীর মনোনয়ন পেয়েছেন দলের উপজেলা সভাপতি ও সাবেক এমপি এ ই সুলতান মাহমুদ বাবু। কিন্তু তিনি শারীরিকভাবে খুবই অসুস্থ থাকায় তার মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানিয়ে আন্দোলন করেছে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক মন্ত্রী পরিষদ সচিব এ এস এম আব্দুল হালিমের কর্মী-সমর্থকরা। এছাড়া মনোনয়ন পাবার পর সুলতান মাহমুদ বাবু হাতেগোনা দুই-এক দিন এসেছেন নির্বাচনি এলাকাতে। এই আসনটিতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে আছেন দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের পরিচালক ড. মো. ছামিউল হক ফারুকী।
জামালপুর-৩ (মেলান্দহ ও মাদারগঞ্জ) :এই আসনে মির্জা আজমের কাছে টানা তিন বার পরাজিত হয়েছেন বিএনপির সম্ভাব্য মনোনীত এমপি প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল। মির্জা আজমের এলাকা নামে পরিচিত এই আসনটিতে এবারও বেকায়দায় রয়েছে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির জলবায়ু বিষয়ক সহসম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল। তবে এই বেকায়দা আওয়ামী লীগের জন্য নয়। মনোনীত প্রার্থীর বাইরেও বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন আরো তিন জন। এর মধ্যে রয়েছেন সাবেক সচিব এ কে এম ইহসানুল হক মঞ্জু, মেলান্দহ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাদিকুর রহমান সিদ্দিকি শুভ এবং মাদারগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ফাইজুল ইসলাম লাঞ্জু। মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে ইতিমধ্যে এই তিন প্রার্থী আলাদাভাবে নেমেছিলেন আন্দোলনে। তাদের মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবি রূপ নিয়েছিল বাবুল ঠেকাও আন্দোলনে। তবে এখন আর আন্দোলন নেই বললেই চলে। এছাড়া এই আসনটিতে এনসিপির প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সদস্যসচিব লুত্ফর রহমান। আর এই আসনটিতে জামায়াতের প্রার্থী হলেন—মেলান্দহ উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যাপক মাওলানা মো. মুজিবুল রহমান আজাদী।
জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) :সরিষাবাড়ী উপজেলার জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন বিএনপির সাবেক মহাসচিব ব্যরিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদার। এবারের সংসদ নির্বাচনে দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন পেয়েছেন তারই ভাতিজা ও জামালপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম। শামীম তালুকদার ছিলেন সরিষাবাড়ী পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। এই উপজেলায় আদিকাল থেকেই তালুকদার গোষ্ঠীর রয়েছে ব্যাপক সুনাম ও প্রভাব। এছাড়া সাংগঠনিকভাবেও শক্তিশালী শামীম তালুকদার। এদিকে জামায়াত থেকে এই আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও জামালপুর জেলা সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুল আওয়াল। এবারের নির্বাচনে এই আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপির শামীম তালুকদার এবং জামায়াতের আব্দুল আওয়ালের মধ্যে। তবে ভোটারদের মধ্যে কম পরিচিত আব্দুল আওয়াল। এছাড়া এই আসনে এনসিপির মনোনয়ন পেয়েছেন জেলার সদস্যসচিব ডা. মোশাররফ হোসেন। তাই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অনেকটাই এগিয়ে ও নির্ভার ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম।
জামালপুর-৫ (জামালপুর সদর) :উন্নয়ন ও রাজনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দু হওয়ায় জামালপুর সদর উপজেলার দিকে নজর পুরো জেলাবাসীর। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এই আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন জামালপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন।
এ আসনে জামায়াতে ইসলামী থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় মজলিসের শুরা সদস্য ও জেলা আমির মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুস সাত্তার। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী বয়স্ক হওয়ায় তার পরিচিতির কিছুটা কমতি রয়েছে।
