রাডারের অক্ষমতায় বছরে ক্ষতি ২৫৫ কোটি

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০১৯, ২১:৪৫

বর্তমান বিশ্ব প্রযুক্তিনির্ভর; এইখানে প্রযুক্তিতে পিছাইয়া থাকিলে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হইতে হয়। ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকল্প নিয়া আগাইয়া চলা বাংলাদেশ এখনো প্রযুক্তিতে উন্নত অনেক দেশের তুলনায় পিছাইয়া আছে। ইহার ফলে নানা ক্ষেত্রে দুর্বলতা পরিলক্ষিত হইতেছে এবং দেশ আর্থিক লোকসানের মুখোমুখি হইতেছে। যেমন, সম্প্রতি জানা গিয়াছে, রাডার-প্রযুক্তি যথেষ্ট পরিমাণ আধুনিক না হওয়ার দরুন বছরে প্রায় ২৫৫ কোটি টাকা আকাশ চলাচলে রাজস্ব হারাইতেছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি কারওয়ান বাজারের পেট্রোসেন্টারে ‘ব্লু ইকোনমি’-সংক্রান্ত এক সভায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ— বেবিচকের প্রতিনিধিরা জানান, বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের অর্জিত জলসীমার উপর দিয়া আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল করিলেও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে সেই রাজস্ব আদায় করা যাইতেছে না। ঐ আকাশপথ এখনো ভারতের এয়ার ট্রাফিক কনট্রোলে রহিয়াছে এবং এইসব ফ্লাইটের কাছ থেকে রাজস্বও আদায় করিতেছে ভারত। মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে আইনি লড়াইয়ে যে বিশাল সমুদ্রসীমা জয়লাভ করা গিয়াছিল সেই জলসীমার উপর দিয়া বিমান চলাচলের জন্য পাঁচটি আন্তর্জাতিক রুট চালু রহিয়াছে। এই জলসীমায় পাঁচটি রুটের মধ্যে তিনটি আন্তর্জাতিক রুট চিহ্নিত করা গেলেও সেইগুলি বাংলাদেশের দুর্বল রাডার-ব্যবস্থার কাভারেজের বাহিরে থাকিয়া যাইতেছে। এই তিনটির মধ্যে ‘পি ৬৪৬’ নামে একটি রুটের সন্ধান পাওয়া গিয়াছে, যে রুট দিয়া দৈনিক গড়ে প্রায় ৫৫টি এয়ারক্রাফট যাতায়াত করে। বাংলাদেশের অ্যারোনটিক্যাল চার্জ অনুযায়ী ‘পি৬৪৬’ রুটে চলাচলকারী মাঝারি টাইপের এয়ারক্রাফটের চার্জ হিসাব করিলে দৈনিক গড় রাজস্ব দাঁড়ায় ১৬ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার। দেখা যাইতেছে এই একটি রুট হইতে বার্ষিক সম্ভাব্য রাজস্বের পরিমাণ ৬০ লাখ ২২ হাজার ৫০০ ডলার। বাংলাদেশের অর্জিত আকাশসীমায় আরো দুইটি আন্তর্জাতিক রুট চিহ্নিত করা গিয়াছে ‘এন ৮৯৫’ ও ‘এম ৭৭০’ নামে। তবে রাডার এরিয়ার বাইরে থাকায় ঐ দুইটি রুটে চলাচলরত আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের হিসাব সংগ্রহ করিতে পারে নাই বেবিচক। এই বিষয়ে বেবিচকের ডিরেক্টর আবুল কালাম আজাদ বলিয়াছেন, ‘বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহার করিয়া প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪০০ ফ্লাইট ওভারফ্লাইং করে। প্রতিটি বড়ো আকারের এয়ারবাস হইতে আমরা ৪০০ মার্কিন ডলার রাজস্ব পাই। এই রাজস্ব কোনোভাবেই মিসিং হওয়ার সুযোগ নাই।’ তবে তিনি বঙ্গোপসাগরে অর্জিত জলসীমার উপর দিয়া আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার কোনো তথ্য দিতে পারেন নাই।

বঙ্গোপসাগরের ঐ এলাকার উপর যেহেতু বাংলাদেশের আগে একচ্ছত্র অধিকার ছিল না, সেহেতু ঐ আকাশসীমায় ফ্লাইট ইনফরমেশন রিজিওন গড়ে তোলার কোনো সুযোগও ছিল না। কিন্তু বর্তমানে সেই সুযোগ সৃষ্টি হইয়াছে; বঙ্গোপসাগরে এফআইআর বর্ধিত করিতে হইলে চট্টগ্রামে অবস্থিত রাডারের কার্যক্ষমতা বাড়াইতে হইবে। পাশাপাশি অন্যান্য অবকাঠামো সুবিধাও গড়িয়া তুলিতে হইবে। আমরা আশা করি সংশ্লি­ষ্ট কর্তৃপক্ষ এই ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করিবে। যে মূল্যবান রাজস্ব আমরা হারাইতেছি তা কোনোভাবেই   কাম্য নহে।