‘চীনের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ, নির্বাচনে খেসারত গুনতে হবে ট্রাম্পকে’

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০১৯, ২১:৫১

২০২০ সালে অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইছেন দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজ দল থেকে তার প্রার্থিতাও বলা চলে প্রায় নিশ্চিত। তবে চীনের বিরুদ্ধে তিনি যে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করেছেন, শেষ পর্যন্ত মার্কিন নির্বাচনেই তাকে এর খেসারত গুনতে হবে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের যেসব অঙ্গরাজ্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণে সয়াবিন উত্পাদন করে সেসব রাজ্যে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া  ট্রাম্পের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। কেননা, যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিন রপ্তানির ৬০ শতাংশই হয় চীনে। 

ট্রাম্পের বাণিজ্যযুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় চীনে মার্কিন সয়াবিন রপ্তানিতে ধস নেমেছে। ফলে শস্য বিক্রি করতে না পারায় চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন কৃষকরা। ক্ষোভে ট্রাক্টর দিয়ে ক্ষেতের ফসল নষ্ট করে দিচ্ছেন অনেক কৃষক। পর্যাপ্ত সংরক্ষণাগারের অভাবে পচে যাচ্ছে অনেকের শস্য। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সয়াবিন উত্পাদনকারী রাজ্যগুলোতে তার কাঙ্ক্ষিত ভোট পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অথচ ২০১৬ সালের নির্বাচনে এসব রাজ্যে ভালো ফলাফল করেছিল ট্রাম্পের দল ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি। খবর আনাদোলু নিউজ এজেন্সির

ট্রাম্পের নীতির ফলে বড়ো ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন এসব রাজ্যের কৃষকরা। ফলে সঙ্গত কারণেই আগামী নির্বাচনে ফের ট্রাম্পের প্রতি রায় দিতে হয়ত দ্বিতীয়বার ভাবনার অবকাশ থাকবে তাদের। কেননা, বিদেশি পণ্যে শুল্কের পরিমাণ বাড়িয়ে যে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করেছে হোয়াইট হাউজ, তার প্রত্যক্ষ শিকারে পরিণত হয়েছেন তারা। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই চিন্তার ভাঁজ পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান শিবিরে।

৩১ জুন ক্লিভল্যান্ড ডটকমে লেখা এক কলামে বিষয়টির অবতারণা করেন রিপাবলিকান পার্টির এক জন সিনিয়র রাজনীতিক। ঐ রাজনীতিক ডেভ ডডসন বলেন, রিপাবলিকান পার্টির ২০২০ সালের নির্বাচন মানচিত্র অনেকটা দেশের সয়াবিন উত্পাদনের মানচিত্রের মতো দেখাচ্ছে। ২০১৬ সালের নির্বাচনে সয়াবিন উত্পাদনকারী শীর্ষ ১০ রাজ্যে সফলতা পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু আইওয়া ও ওহাইওর মতো অঙ্গরাজ্যে তার রেটিং এখন নেতিবাচক। নর্থ ডাকোতা এবং নেব্রাস্কাতেও জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন ট্রাম্প। ২০১৬ সালের নির্বাচনে জিতলেও ইতিমধ্যে এ দুই রাজ্যে তার সমর্থন কমেছে ১৭ থেকে ২২ শতাংশ।

বর্তমানে স্ট্যানফোর্ড গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব বিজনেস-এ শিক্ষকতা করছেন ডেভ ডডসন। তার মতে, মার্কিন সয়াবিন চাষিদের জন্য এ বাণিজ্যযুদ্ধের প্রতিক্রিয়া হবে দীর্ঘমেয়াদি। তাদের প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ভুগতে হবে। এখন ভোটের মাঠে নিজেদের পকেটের দিকে তাকিয়ে যদি এই কৃষক সম্প্রদায় সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে ২০২০ সালের নির্বাচনে ২৭০টি ইলেকটোরাল ভোট জিতে ফের ক্ষমতায় আসা ট্রাম্পের জন্য খুবই কঠিন হয়ে পড়বে।