ঈশ্বরদীতে তীব্র শীতে থমকে গেছে জনজীবন

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৪:৩৪

ঈশ্বরদীতে তীব্র শীতের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তাপমাত্রা হ্রাস ও উত্তরের হিমেল বাতাসের প্রভাবে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে খেটে খাওয়া নিম্নআয়ের মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। গত দুই দিন ধরে সূর্যের দেখা না মেলায় শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে।

পদ্মা নদীতীরবর্তী চরাঞ্চলে শীতের দাপট তুলনামূলকভাবে বেশি। শিশু ও বয়স্করা ঠান্ডাজনিত নানা সমস্যায় ভুগছেন। হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশায় জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। শুষ্ক আবহাওয়া, বাতাসে আর্দ্রতা কমে যাওয়া এবং জেট বায়ু ভূপৃষ্ঠের কাছে নেমে আসার কারণে তাপমাত্রা এই মাত্রায় নেমেছে।

চরাঞ্চলের দরিদ্র মানুষদের রাতে গরম কাপড়ের অভাবে নির্ঘুম থাকতে হচ্ছে। কাঠ ও খড় জ্বালিয়ে আগুন পোহানোই তাদের একমাত্র ভরসা। এ বছর এখন পর্যন্ত কোনো দানশীল ব্যক্তি বা সংগঠন কম্বল বিতরণ করেনি। হিমেল হাওয়ার কারণে খেটে খাওয়া অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। গৃহপালিত পশু-পাখিও শীতে কাবু হয়ে পড়েছে। কৃষকেরা ঘন কুয়াশায় বোরো ধানের বীজতলা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখছেন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নদীর পাড়ে বসবাসের কারণে ঠান্ডা বাতাসে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস আনাতেও সমস্যা হচ্ছে। অনেকেই রাস্তার পাশে বা খোলা স্থানে খড়কুটো ও কাঠ জ্বালিয়ে আগুন পোহাচ্ছেন। ঘর থেকে বের হতে না পারায় আয়ের সুযোগও কমেছে। তাই তারা জরুরি ত্রাণ সহায়তা ও গরম কাপড় বিতরণের দাবি জানিয়েছেন।

ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের সহকারী পর্যবেক্ষক নাজমুল হক রঞ্জন জানান, পরপর দুই দিন—রোববার ও সোমবার (২৯ ডিসেম্বর)—ঈশ্বরদীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শনিবার ছিল ১০.২ ডিগ্রি, শুক্রবার ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দিনের অধিকাংশ সময় সূর্যের অনুপস্থিতি এবং ঘন কুয়াশার কারণে শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে।

ইত্তেফাক/এএইচপি