অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, পরপর তিন বছর বেসিক ব্যাংকের যে সব শাখা লোকসানে থাকবে সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে। যারা বেনামে ঋণ নিয়েছে টাকা ফেরত না দেওয়ার জন্য, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের পেছনে আমরা এজেন্সির লোক নিয়োগ দেব। দেশ-বিদেশে যেখানেই থাকুক তাদের বের করা হবে, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা ঋণ আদায় সহজ করে দেব কিন্তু ঋণ মাফ করতে পারব না। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মতিঝিলে বেসিক ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন শেষে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক আলোচনায় অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন। এ সময় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব আছাদুল ইসলাম, বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন এ মজিদ, এমডি রফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বেসিক ব্যাংকে বিশেষ নিরীক্ষা চলছে। ঋণ বিতরণ অনিয়মে ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তার যোগসূত্র থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত অনেক দুর্নীতি হয়েছে। সে সময়ে নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে ব্যাংক কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং বেনামে ঋণ দেওয়া হয়েছে। সেসব শাখাগুলো এখন আর লাভ করতে পারছে না। ঐসব শাখাগুলোর মধ্যে যেগুলো গত দুই বছর এবং বর্তমান বছরে লাভ দেখাতে ব্যর্থ হবে সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে। যারা দুই বছর ধরে লোকসানে আছেন তারা এই বছর সতর্ক হয়ে যান বলেও মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী। বর্তমানে ব্যাংকটির ৩৬টি শাখা লোকসানে আছে। বেসিক ব্যাংকে ৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ঋণখেলাপ আছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, গ্রাহকরা যদি ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে বাকি টাকা ৯ শতাংশ হারে সুদের মাধ্যমে পরিশোধ করে তাহলে তা পরিশোধ হতে ১১ বছর লাগবে। যারা এই সুযোগ নেবে না তাদের প্রত্যেককে খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
