বহুল আলোচিত বিজ্ঞানমনস্ক লেখক ও ব্লগার প্রকৌশলী ড. অভিজিত্ রায় হত্যা মামলার বিচার শুরু হয়েছে। নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সামরিক শাখার প্রধান সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক ওরফে জিয়াসহ ছয় জঙ্গির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার সন্ত্রাস বিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ চার বছর পর চাঞ্চল্যকর এ মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হলো। মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন-সৈয়দ জিয়াউল হক ওরফে জিয়া, শফিউর রহমান ফারাবী, মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন ওরফে শাহরিয়ার, আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব ওরফে সাজিদ ওরফে শাহাব, মো. মুকুল রানা ওরফে শরিফুল ইসলাম ওরফে হাদী, মো. আরাফাত রহমান ও আকরাম হোসেন ওরফে আবির। আসামিদের মধ্যে শীর্ষ জঙ্গি নেতা জিয়া ও আকরাম পলাতক। এর মধ্যে জিয়াকে ধরিয়ে দিতে ২০ লাখ টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করে পুলিশ। মামলার বাকি আসামিরা বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। গতকাল আদালতে হাজির করা হলে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন বলে পুলিশ ও আদালত সূত্র জানায়।
এদিকে অভিজিত্ হত্যা মামলার নির্ধারিত দিনে গতকাল শুনানি শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ১১ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন সন্ত্রাস বিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে একুশে বইমেলা থেকে বের হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির কাছে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বিজ্ঞান বিষয়ক লেখক অভিজিত্ রায়কে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে জঙ্গিরা। এ সময় তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদও আহত হন। এ ঘটনায় তার বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. অজয় রায় বাদী হয়ে পরদিন শাহবাগ থানায় হত্যা মামলা করেন। দীর্ঘ তিন বছর মামলাটির তদন্ত করে গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। পরবর্তীতে অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। নিবিড় তদন্ত শেষে গত ১৩ মার্চ মেজর সৈয়দ জিয়াউল হকসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে সিটিটিসি। ১১ এপ্রিল আদালত চার্জশিট গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে পলাতক আসামি জিয়া ও আকরামের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি ও ক্রোকি পরোয়ানা জারি করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আসামি সায়মন, সোহেল ও আরাফাত ইতিমধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
