চট্টগ্রামে এখনো পর্যন্ত ভারত ও মিয়ানমার থেকে কোনো কোরবানির পশু আসেনি। দেশীয় খামারি ও প্রান্তিক কৃষকদের পালিত গরু দিয়ে কোরবানির চাহিদা মেটানো হবে। চট্টগ্রামে প্রতিবছর দেখা যায় মাঝারি ও দেশীয় জাতের লাল গরুর চাহিদা বেশি থাকে। জেলায় এবার এ ধরনের প্রচুর গরু পালিত হয়েছে বলে বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান। ভারত ও মিয়ানমার থেকে গরু আসা বন্ধ থাকায় বেপারিরা কোরবানির গরু সংগ্রহের জন্য ছুটছেন গ্রামে। তারা বাজারের চাহিদা অনুপাতে গরু সংগ্রহ করছে। কোরবানির বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গ্রামের মাঝারি আকৃতির গরুগুলো বেপারিদের হাতে চলে যাচ্ছে। মৌসুমি গরু বেপারিরা ঘরে ঘরে গিয়ে চড়া দামে এসব গরু কিনে নিচ্ছে। এছাড়া সীমান্ত দিয়ে গরু আসা বন্ধ থাকায় গরু ব্যবসায়ীরা গ্রামে গিয়ে খামারি ও প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে আগেভাগে গরু কিনে নিচ্ছে। যাতে কোরবানির বাজারে নিয়ন্ত্রণ রাখা যায়। জেলার সাতকানিয়া, চন্দনাইশসহ বিভিন্ন স্থান থেকে এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলায় এবার ৬ লাখ ১০ হাজার কোরবানির পশু মোটাতাজাকরণ করা হয়েছে। ফলে কোরবানির চাহিদা স্থানীয় পশু দিয়ে মেটানো যাবে। বাইরে থেকে পশু আনার দরকার হবে না। এতে খামারিরা উপকৃত হবে। ভারত ও মিয়ানমার থেকে সীমান্ত দিয়ে চোরাই পথে গরু আনার ওপর কঠোর নজরদারি বাড়িয়েছে প্রশাসন। এখনো পর্যন্ত চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা বাইরে থেকে কোরবানির পশু আনতে পারেনি। ফলে চট্টগ্রামের তিন শতাধিক গরু ব্যবসায়ী এখন সংশয়ের মধ্যে রয়েছে। নগরীর বৃহত্ সাগরিকা গরুর বাজারের ব্যবসায়ী শওকত আলী ইত্তেফাককে বলেন, ভারত ও মিয়ানমার থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো গরু আসেনি। বাইরে থেকে গরু না আসলে বাজারে কোরবানির পশুর সংকট দেখা দিবে। বাজারে গরুর দাম বেড়ে যাবে। স্থানীয়ভাবে পালিত গরুর যে হিসেব দেখানো হচ্ছে তা সঠিক নয়।
