নারায়ণগঞ্জে দুদিনে ২টি হত্যার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সকালে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শহরের চাষাঢ়ায় কোকা কোলার বোতল দিয়ে আঘাত করে ঐ কোমল পানীয় সরবরাহকারী তোফাজ্জল হোসেন তপুকে (৫৫) হত্যা করে দুই যুবক। এছাড়া গত বুধবার রাতে শহরের খানপুরে প্রেমিকার ডাকে তার বাসায় গিয়ে খুন হন প্রেমিক ফয়সাল হোসেন। এ দুটি ঘটনায় পুলিশ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তোফাজ্জল হোসেন বিভিন্ন দোকানে কোকাকোলা কোম্পানির কোমল পানীয় সাপ্লাই করেন। গতকাল দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে চাষাঢ়া বালুর মাঠ এলাকার রডের দোকানের কর্মচারী সুমন ও শাহ্জাহান তার কাছে একটি কোক চায়। পরে তোফাজ্জল একটি কোকের বোতল সুমনের দিকে ছুড়ে দিলে সেটি দুর্ঘটনাবশত সুমনের কপালে লাগে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সুমন ও শাহ্জাহান মিলে তোফাজ্জলের বুকে কোকের বোতল দিয়ে বারবার আঘাত করতে থাকে। একপর্যায়ে তোফাজ্জল অচেতন হয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিত্সক ডা. অমিত রায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় শাহ্জাহানকে আটক করা হয়েছে। সুমনকে আটকের জন্য অভিযান চলছে।
অপরদিকে গত বৃহস্পতিবার রাতে শহরের খানপুরে প্রেমিকার ডাকে তার বাসায় এসে প্রেমিক ফয়সাল হোসেন (১৮) প্রেমিকার বড়ো ভাইসহ অন্যদের বেধড়ক পিটুনিতে নিহত হন। নিহত ফয়সাল সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল পশ্চিম এনায়েতনগরের নুরুজ্জামান মিয়ার ছেলে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি ঘটে খানপুর ব্রাঞ্চরোডের আলতাফ মিয়ার বাড়িতে। এ ঘটনায় পুলিশ চাুর জনকে গ্রেফতার করেছে। এরা হলো- প্রেমিকার বড়ো ভাই মো. আসিফ (২০), সাকিব (১৫), মিলন (১৮) ও সানজিল (১৭)। নিহত ফয়সাল পেশায় একজন ফ্রিজ মেকানিক ছিলেন। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গত বুধবার রাতে প্রেমিকা সামিয়াকে দিয়ে ফয়সালকে বাড়িতে ডেকে নেন সামিয়ার বড়ো ভাই আসিফ। এ সময় ফয়সালকে আসিফ তার বোনের মোবাইল ফোনটি ফেরত দিতে বলে। ফয়সাল কথা না বাড়িয়ে মোবাইলটি ফেরত দেন। কিন্তু এর পরও আসিফ উলটাপালটা কথা বলে ফয়সালের সঙ্গে ঝগড়া লাগানোর চেষ্টা করে। ফয়সাল প্রেমিকার বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে চাইলে আসিফ তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। তর্কাতর্কির একপর্যায়ে প্রেমিকার অন্য স্বজনরা লাঠিসোটা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে ফয়সালের ওপর এবং তাকে বেধড়ক পেটাতে থাকে। এ সময় আসিফ ঘটনাকে ‘ছেলেধরা’ গুজব বলে চালিয়ে দেওয়ারও চেষ্টা করে। একপর্যায়ে ফয়সাল জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে গুরুতর আহত ফয়সালকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় কর্তব্যরত চিকিত্সক ফয়সালকে মৃত ঘোষণা করেন।
