আমাজন জঙ্গলে অবৈধভাবে খননকাজ করার জন্য এত ব্যাপক আকারে ক্ষতি হয়েছে যে তা মহাকাশ থেকেও দেখা যায়। এই জঙ্গলের ব্রাজিলের সীমানার ভেতরে থাকা অংশে কিছু এলাকায় স্থানীয় নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর মালিকানাধীন জমিতে অবৈধ কার্যক্রম বিপজ্জনক হারে বেড়েছে বলে উঠে এসেছে বিবিসি নিউজ ব্রাজিলের প্রকাশ করা সাম্প্রতিক এক ভিডিওতে।
ব্রাজিল বাদেও দক্ষিণ আমেরিকার সাতটি দেশে ছড়িয়ে রয়েছে আমাজন জঙ্গল। পরিবেশবিদ এবং নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর নেতারা মনে করেন, পারা ও রোরাইমা রাজ্যে ব্যাপক হারে বন উজাড় হওয়ার কারণ সেসব জায়গায় অবৈধ খননের বিষয়ে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জেয়ার বোলসোনারোর সমর্থন। নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীদের জায়গায় খনন কাজকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ব্রাজিলে বিদ্যমান আইনের বিপরীত একটি আইন প্রণয়নে সমর্থন করেন বোলসোনারো। পাশাপাশি, বিশ্বের সর্ববৃহত্ রেইনফরেস্টের যথাযথ সংরক্ষণ করা হচ্ছে না—এমন সমালোচনার বিরুদ্ধেও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। ঐ প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্য-উপাত্তকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছেন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেছেন, যদি আসলেই এত ব্যাপক হারে বন উজাড় করা হতো, তাহলে পুরো জঙ্গলটাই এত দিনে ধ্বংস হয়ে যেত। বিবিসি মার্কিন সংস্থা প্ল্যানেট ল্যাবের কাছ থেকে পাওয়া কিছু ছবি যাচাই করে বন উজাড় করার বিষয়টি প্রকাশ করে। প্ল্যানেট ল্যাবের মহাকাশে ১০০টিরও বেশি স্যাটেলাইট আছে, যেগুলো থেকে প্রতিদিন ভূপৃষ্ঠের ছবি পাওয়া যায়।
আমাজন সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে গবেষণা করা ব্রাজিলভিত্তিক একটি সংস্থা ইমাজনের গবেষক পাওলো বারেতো মনে করেন, প্রেসিডেন্ট বোলসোনারোর মন্তব্য আর আইনের দুর্বল প্রয়োগ থাকার কারণে অবৈধ খননের বিস্তৃতি বাড়ছে। মানুষ মনে করছে, তারা বন উজাড় করার জন্য শাস্তির সম্মুখীন হবে না, তাই এ ধরনের কাজ করার মানসিকতা তৈরি হয়েছে মানুষের মধ্যে।
