মাদুরোকে আটক

‘সবকিছুই তেলের জন্য’

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:০৭

ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের পেছনে প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোর দীর্ঘদিনের অভিযোগ—ওয়াশিংটন তার সরকার উৎখাত করে ভেনেজুয়েলার তেল দখল করতে চায়—এবার যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকেই সেই অভিযোগকে জোরালোভাবে সামনে আনছেন জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকেরা।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বারবার অভিযোগ করে আসছেন, ট্রাম্প প্রশাসন তার সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করছে এবং দেশটির বিপুল তেলসম্পদের দখল নিতে চাচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। তিনি বলেছেন, ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি ‘সমর্থন’ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানিগুলো ‍সেখানে প্রবেশ করবে।

তেলবাজার বিশ্লেষক ও লিপো অয়েল অ্যাসোসিয়েটসের প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু লিপো মনে করেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট হয়—ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ মূলত ‘তেলকেন্দ্রিক’। আল জাজিরাকে তিনি বলেন, ‘ট্রাম্পের বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক অভিযান আসলে “সবকিছুই তেল ঘিরে”।’

মাদক পাচারের অভিযোগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন লিপো। তার ভাষায়, ‘ভেনেজুয়েলা দিয়ে ঠিক কতটা মাদক প্রবেশ করছে, তা নিয়ে বড় ধরনের বিতর্ক রয়েছে। কোকেনের ক্ষেত্রে এটা কি আসছে কলম্বিয়া বা মেক্সিকো দিয়ে, নাকি ফেন্টানিল তৈরির রাসায়নিক সরবরাহ করছে চীন—সেটাও স্পষ্ট নয়।’

ভেনেজুয়েলার তেল খাতের বাস্তব অবস্থা তুলে ধরে লিপো বলেন, এই খাত টিকিয়ে রাখতে বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগ প্রয়োজন। তিনি জানান, প্রায় ৩০ বছর আগে ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন দৈনিক ৩০ লাখ ব্যারেলের বেশি ছিল। বর্তমানে তা নেমে এসেছে এক মিলিয়ন ব্যারেলেরও নিচে। তার মতে, ‘তেল উৎপাদন স্থাপনা ও অবকাঠামোর অবস্থা এতটাই নাজুক যে উৎপাদন ধরে রাখতেই বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রয়োজন। তবুও আমরা দেখছি, উৎপাদন ক্রমাগত কমছে।’

এই বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্রের সামনে বড় প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। লিপোর ভাষায়, ‘প্রথম প্রশ্ন হলো—ভেনেজুয়েলায় কে এই বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করবে? আর কত দ্রুত তা করা হবে? বিশেষ করে যখন একটি দীর্ঘ সময় ধরে মাটিতে আসলে কারা ক্ষমতায় থাকবে, তা নিয়েই অনিশ্চয়তা রয়েছে।’

এদিকে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ভেনেজুয়েলায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন নিয়ে কথা বলা এক ভেনেজুয়েলান কর্মকর্তার বরাতে এই তথ্য দিয়েছে পত্রিকাটি। নিহতদের মধ্যে বেসামরিক মানুষ ও সামরিক সদস্য—দু’পক্ষই রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন এক বিমান হামলায় কারাকাস বিমানবন্দরের পশ্চিমে দরিদ্র উপকূলীয় এলাকা ক্যাটিয়া লা মার পাড়ার একটি তিনতলা আবাসিক ভবন সরাসরি আঘাতপ্রাপ্ত হয়। ওই হামলায় ৮০ বছর বয়সী রোসা গঞ্জালেস ও তার পরিবারের সদস্যরা নিহত হন। একই ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

হামলায় আহত রোসা গঞ্জালেসের ভাতিজা উইলমান গঞ্জালেস নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, বাড়ি হারানোর পর তিনি কোথায় যাবেন—এ প্রশ্নে তাঁর জবাব ছিল, ‘আমি জানি না।’

এ ছাড়া ৭০ বছর বয়সী এক প্রতিবেশী জর্জ জানান, বিমান হামলায় তিনি তাঁর ‘সবকিছু’ হারিয়েছেন।

ইত্তেফাক/এনএন