লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনা বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ বলেছেন, বৈরুতে ইসরায়েলি হামলা প্রমাণ করেছে যে যুক্তরাষ্ট্র হয় তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অনিচ্ছুক, নয়তো তা বাস্তবায়নে অক্ষম। একই সঙ্গে ইরানের সামরিক বাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার জবাব দেওয়া হবে।
রোববার (১৪ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ঘালিবাফ বলেন, লেবাননে চলমান ইসরায়েলি হামলা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সক্ষমতা ও সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। তিনি বলেন, ‘বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরে জায়নবাদী হামলা আবারও প্রমাণ করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের হয় তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ইচ্ছা নেই, নয়তো তা বাস্তবায়নের সক্ষমতা নেই।’
এদিকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ জাফর আসাদি বলেছেন, লেবাননে ইসরায়েলের হামলার জবাব দেয়া হবে। ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করে চালানো ইসরায়েলি হামলার ‘উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে’।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, চলমান যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও রোববার বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত তিনজন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন। ইসরায়েলি বাহিনী চলতি বছরের ২ মার্চ থেকে লেবাননে ধারাবাহিক বোমা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি শহরও দখলে রেখেছে তারা।
লেবাননের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এসব হামলায় এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ১১ হাজার ৫০০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১৫ লাখের বেশি মানুষ।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে ইরানের সঙ্গে যে চুক্তি হচ্ছে, তা রোববারই স্বাক্ষরিত হবে। তবে ইরান এই সময়সূচি নিয়ে দ্বিমত পোষণ করেছে এবং জানিয়েছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও বিবেচনাধীন।
বৈরুতে ইসরায়েলি হামলার পর ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা যখন চুক্তির এত কাছাকাছি, তখন এই হামলা হওয়া উচিত ছিল না’। তিনি ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহকে সংযত থাকার আহ্বান জানান এবং ‘দীর্ঘস্থায়ী ও সুন্দর শান্তি’ প্রতিষ্ঠার আশা প্রকাশ করেন।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনকারী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ শনিবার বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই চুক্তিটি চূড়ান্ত হতে পারে।
অবশ্য ইরান বলছে, সম্ভাব্য যেকোনও চুক্তির অংশ হিসেবে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে, দেশটির জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করতে হবে এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ তুলে নিতে হবে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করুক এবং হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দিক।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

