তরুণ বলতে আমি বুঝি যারা ১৮ কিংবা ১৯ থেকে শুরু করে ৩০ বছরের গণ্ডির ভিতরে। যারা আবেগকে বিসর্জন দিয়ে বাস্তবতা বুঝতে শিখেছে। আর এ গণ্ডির মধ্যে যারা আবদ্ধ তারাই মূলত তরুণ প্রজন্ম।
প্রথমে প্রশ্ন চলে আসে যাদের রাজনীতিতে কোনো আগ্রহ নেই, তাদের রাজনৈতিক নেতৃত্বে আবার প্রত্যাশা কি থাকতে পারে? আমরা কলরেডির একটি জরিপে দেখেছি যে, বাংলাদেশের ৮০% তরুণ রাজনীতি বিমুখ। তবে তাদের এ ক্ষেত্রে আর কি প্রত্যাশা থাকতে পারে! আবার আর একটি প্রশ্ন চলে আসে কেন তবে তরুণরা রাজনীতি বিমুখ? এর একটি সুন্দর জবাব প্রেসক্লাবের তরুণদের নিয়ে আয়োজিত একটি প্রোগ্রামে ২৯ নভেম্বর অধ্যাপক ড. শামসুল আলম দিয়েছেন,“আসলে তরুণরা রাজনীতি বিমুখ নয় তারা হলো অপরাজনীতি বিমুখ।” যেটা বাংলাদেশে বর্তমানে চর্চা হচ্ছে ফলে তরুণরা খুন-খারাবি, মারামারি, প্রতিহিংসা অপছন্দ করার কারণে রাজনীতি বিমুখ হিসেবে নিজের স্থান নিশ্চিত করছেন। বাংলাদেশের মোট ভোট ব্যাংকের আড়াই কোটি তরুণ। যার ফলে শুধু তরুণদের নয় তরুণদের কাছেও রয়েছে প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের প্রত্যাশা। গত ২৯ নভেম্বরে এ প্রত্যাশার প্রতিফলন আমরা নায়ক ফেরদাউসের মুখেও শুনেছি। তিনি বলেছেন, আপনারা তরুণরা ভোট দেয়ার পরে ছবি তুলে আপনাদের ফেসবুকে শেয়ার করবেন। তার মানে স্পষ্ট যে তরুণদের এ ভোটের মূল্য অনেক। এছাড়া বর্তমানে আউটসোর্সিং-এ তরুণরা অনেকাংশে যুক্ত হতে শুরু করেছে। ১৬ %-এর মতো বাংলাদেশি আউটসোর্সিং করে । যার বেশির ভাগই তরুণ। যা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে।
এবার আমরা তরুণদের কিছু সমস্যার দিকে নজর দিব। আর এ সমস্যাগুলোর সমাধান করাই হলো রাজনীতিতে তরুণদের প্রত্যাশা, যে নেতা বা যার নেতৃত্ব যত দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়ে সমস্যাগুলোর সমাধান দিবে তাঁর নেতৃত্বকেই তরুণরা মেনে নিবে।
প্রথমে তরুণদের যেটা প্রত্যাশা সেটি হলো প্রত্যেকের একটির চাকরির ব্যবস্থা করা। আপনি চাকরিজীবীদের সুযোগ সুবিধা বাড়াবেন সমস্যা নেই । কিন্তু সবার যদি চাকরি না থাকে পেটে ভাত না থাকে তবে এক শ্রেণি অনেক উপরে থাকবে আর এক শ্রেণি না খেয়ে মারা যাবে যা তরুণরা প্রত্যাশা করে না। কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা। আমরা অনার্সে ৪ বছর যা পড়ি অনার্স শেষে দেখি এ পড়াশুনা কোনো কাজে আসে না । তার মানে চাকরির পড়াশুনা আবার নতুন করে শুরু করতে হয়। তাহলে এ পড়াশুনার লাভ কি? যদি পড়াশুনার সঙ্গে কর্মসংস্থানের কোনো সম্পর্ক না থাকে। তরুণরা চায় এপ্লাইড পড়াশুনার পদ্ধতি।
রাজনীতি মানেই মাদক-মারামারি ইত্যাদি। কারণ এমন একটি ট্রেন্ড চালু হয়েছে যে বিড়ি, সিগারেট, গাঁজা মদ না খেলে নেতা হওয়া যায় না। মারামারি বাধাতে হয়, ঝামেলা পাকিয়ে নিজের ক্ষমতার প্রমাণ দিতে হয়। তাই তরুণদের রাজনীতি অপছন্দের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিশেষে বলব, তরুণদের আছে এক উজ্জ্বল ইতিহাস। তারা ১৯৫২, ১৯৫৪, ১৯৬৯ দেখেনি। তবে ইতিহাস ভোলেনি বাংলার তরুণরা। ভোলেনি সালাম, বরকত, রফিক, নূর হোসেন, আসাদ, রউফুন বসুনিয়া, মতিয়া চৌধুরী, তোফায়েল আহমেদদের তরুণরা। তরুণরা যে তাদের উত্তরসূরী। তরুণরা ন্যায়ের পক্ষে থাকতে চায়। তরুণরা ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত একটি সুখী সুন্দর বাংলাদেশ চায় সকল অপ-রাজনীতির ঊর্ধ্বে থেকে। আর এ নিশ্চয়তা যে দিবে তরুণদের, এক্ষেত্রে তরুণরা যাকে যোগ্য মনে করবে সে নেতৃত্বকেই প্রাধান্য দিয়ে এমন রাজনৈতিক নেতাকে বিপুল ভোটে জয়যুক্ত করবেন পূর্বাপর কাজের বিবেচনায়।
n লেখক :শিক্ষার্থী,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
