ট্রাম্পের হুমকির পর সহযোগিতার ইঙ্গিত ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকারের

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২১:২১

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নেওয়ার পর ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিয়েছেন। আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেওয়ার আগে তিনি মাদুরোকেই ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট দাবি করে আধিপত্যবাদী শক্তির কাছে মাথা নত না করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন।

তবে রোববার (৪ ডিসেম্বর) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দেন, কারাকাসের নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের কথা না শুনলে ভেনেজুয়েলায় আবার হামলা চালানো হবে। ট্রাম্পের এমন হুমকির পর নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে ওয়াশিংটনের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন রুদ্রিগেজ।

মাদুরোকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর রুদ্রিগেজ বলেছিলেন, 'আমাদের প্রেসিডেন্টকে অপহরণ করা হয়েছে। এটা ঔপনিবেশিক শক্তির তেল লুটের পাঁয়তারা।'

কিন্তু হুমকির পর তিনি বলেন, 'আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্মানজনক সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী যৌথ উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ করতে চাই- যাতে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের স্থায়ী পরিবেশ তৈরি হয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, আমাদের জনগণ ও অঞ্চল যুদ্ধ নয়- শান্তি ও সংলাপের দাবিদার।'

৫৬ বছর বয়সী রুদ্রিগেজ দেশটির বামপন্থী এক গেরিলা নেতার কন্যা। তিনি 'চাভিস্টা' আন্দোলনের দৃঢ় সমর্থক। দেশটির প্রয়াত নেতা হুগো স্যাভেজের নাম ও আদর্শে এ আন্দোলন শুরু করেন মাদুরো। এ আন্দোলনের প্রতি দৃঢ় সমর্থনের কারণে রুদ্রিগেজকে 'বাঘিনী' উপাধি দিয়েছিলেন মাদুরো।

এদিকে, মাদুরোকে আজ সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতে হাজির করা হয়েছে। যেখানে তার বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগের শুনানি হবে।

নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘের সদর দপ্তরে সংস্থাটির নিরাপত্তা পরিষদে ভেনেজুয়েলায় পরিচালিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান আইনসম্মত কিনা, তা নিয়েও আলোচনা হবে।

প্রসঙ্গত, লাতিন আমেরিকার দেশ পানামায় ১৯৮৯ সালে প্রায় একই ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তুলে নেওয়া হয়েছিল দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ম্যানুয়েল নরিয়েগাকে। দ্রুতগতির এ অভিযানে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা হেলিকপ্টারে করে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে মাদুরোর সুরক্ষিত অবস্থান স্থলে প্রবেশ করেন। অল্প সময়ের মধ্যে নিরাপত্তাবলয় ভেঙে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে তুলে নিয়ে যান মার্কিন সেনারা।

ইত্তেফাক/এসকে