নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) তথ্য বিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং দৈনিক ইত্তেফাকের সাবেক নোবিপ্রবি সংবাদদাতা সাবিহা তাসমিম নিজ বিভাগে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। তার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও তিনজন সাবেক শিক্ষার্থীসহ মোট ২৩ জন শিক্ষক বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে নতুন করে নিয়োগ পেয়েছেন।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ তামজিদ হোসাইন চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ৬৮তম রিজেন্ট বোর্ডের অনুমোদনক্রমে আটটি বিভাগ ও দুটি ইনস্টিটিউটে এই নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।
নিয়োগপ্রাপ্ত সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছেন— পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৬–১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী কবির হোসেন, অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১২–১৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জাহিদুল হাসান এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৭–১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. জুবায়ের আলম রাফি।
নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করে সাবিহা তাসমিম বলেন, শিক্ষকতা একটি মহৎ পেশা। আর নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হওয়ার সুযোগ পাওয়া মানে দায়িত্ব আরও কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়া। আমি স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাকে এই মর্যাদাপূর্ণ পথচলায় এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছেন। পাশাপাশি আমার পরিবার, শ্রদ্ধেয় শিক্ষকমণ্ডলী, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং নোবিপ্রবি প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই, যারা আমাকে শিক্ষা ও নৈতিকতার আলোকে গড়ে তুলেছেন এবং একটি মেধাভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন।
ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার আরও জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়েছে। গত ২৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ৬৮তম রিজেন্ট বোর্ড সভায় এসব নিয়োগ অনুমোদন দেওয়া হয়। নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে বিভিন্ন বিভাগে প্রভাষক, সহকারী অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক পদে মোট ২৩ জন শিক্ষক রয়েছেন।
এর মধ্যে অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে তিনজন প্রভাষক, প্রাণিবিদ্যা বিভাগে একজন সহকারী অধ্যাপক ও একজন প্রভাষক, বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগে দুইজন প্রভাষক, বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগে দুইজন প্রভাষকসহ অন্যান্য বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
নোবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, শিক্ষক নিয়োগে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে লিখিত পরীক্ষা, প্রেজেন্টেশন ও ভাইভা গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে নোবিপ্রবি এই স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে।
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজুয়ানুল হক বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করে নির্বাচিত হওয়ায় আমরা গর্বিত। সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতেই এই নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।

