অণুগল্প

রহস্যের সন্ধান

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০১৯, ২০:২৭

হরগৌরীর মূর্তিটা লাপাত্তা হয়ে গেল হঠাত্ করেই। রাতেও মন্দিরের ভেতরে ছিল, কিন্তু সকালেই নেই।  মন্দিরটা তুলসীগঙ্গার ধারে নওপুকুরিয়া গ্রামের একটা প্রাচীন ঢিবির ওপরে। পূজারীদের মধ্যে নেমে এল দুঃখের ছায়া।  

এর কয়েকদিনের মধ্যেই এই পাঁচবিবি থানারই সীমান্ত সংলগ্ন গ্রাম কুরিয়ায় জঙ্গল ঘেরা একটা ঢিবি থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি হরগৌরী মূর্তি উদ্ধার করল পুলিশ। ঐ গ্রামেরই যুবক রমেশ মূর্তি উদ্ধারকালে  কাছেই চা-দোকানে বসে গল্প করছিল। কৌতূহলী হয়ে মূর্তিটার একটা ছবি সে নিজের মোবাইল ফোনে   তুলে রাখল। তার জানা ছিল যে, নওপুকুরিয়ায় একটা হরগৌরীর মূর্তি চুরি গেছে। তাই উদ্ধার করা মূর্তিটা থানায় নিয়ে যেতেই সে ছুটল নওপুকুরিয়ায়। সেখানে পৌঁছে সে নিশ্চিত হলো যে, এটাই সেই মূর্তি। রাতটা সে এ গাঁয়েই আত্মীয়বাড়িতে কাটিয়ে সকালে বাড়ি ফিরতে যাবে এমন সময় খবর পেল, কাল রাতে নিকটবর্তী উঁচাই গ্রামের মন্দির থেকে বিষ্ণুর এক বরাহাবতার মূর্তি চুরি গেছে,  যার চার হাতে ছিল যথাক্রমে শঙ্খ, চক্র,  গদা ও পদ্ম। দুটো চুরি হওয়া মূর্তিই নাকি পাওয়া গিয়েছিল বাড়ি বানানোর সময় মাটি খুঁড়তে গিয়ে। তবে কবে পাওয়া গিয়েছিল তা কেউ জানে না। তবে এগুলো যে হাজার বছরেরও আগেকার পালযুগের মূর্তি তাতে সন্দেহ নেই কারোরই।                                           

উঁচাইয়ের মন্দিরটায় গিয়ে সে একজন সেবকের দেখা পেল। লোকটার কাছে জিজ্ঞেস করে সে জানল যে, রাতে ঘুমের বড়ি খেয়ে ঘুমোনোয় চোরের উপস্থিতি টের পায়নি। কিন্তু মলয় নামের এক গ্রামবাসী জানালেন,  তার ছোটো মেয়েটা গতকাল দুপুরে পুকুরে ডুবে মারা যাওয়ায় সারা রাতই তিনি কেঁদে কাটিয়েছেন। শেষরাতের দিকে গাড়ির আওয়াজ শুনে দেখার জন্যে জানালা খুলতেই লাল রঙের একটা জিপ মন্দিরের দিক থেকে পাঁচবিবির দিকে চলে যেতে দেখেছেন।  

থানার ওসি সাহেবের ভগ্নিপতির বাড়ি রমেশদের গ্রামে হওয়ায় এবং তার সঙ্গে ওর ভালো সম্পর্ক থাকায় সহজেই ফোন করে ওসি সাহেবের মোবাইল নম্বর জোগাড় করে ফোনে সবকিছু জানাল। ওসি সাহেব পুলিশ নিয়ে তাড়াতাড়ি চলে এলেন। তল্লাশি করে মন্দিরে কোনো ঘুমের বড়ির খোসাও পাওয়া গেল না। জেরায় সেবকটি স্বীকার করল, পাঁচবিবির ধনীলোক ফণীবাবুর মূর্তি পাচারের ব্যবসা আছে। সে-ই তাকে বশ করেছে টাকা দিয়ে। গাড়িটাও তারই। 

পুলিশের অয়্যারলেসে খবর চলে গেল সঙ্গে সঙ্গে। ধরা পড়ল ফণীবাবু আর তার সব সাঙ্গাত্। উদ্ধার  হলো মূর্তিটা। আর জানা গেল, আগের মূর্তিটাও তারাই চুরি করেছে পাচারের উদ্দেশ্যে। নিরাপদ জায়গা ভেবে ওখানটাতে লুকিয়ে রেখেছিল। গাঁয়ের পূজারী, থানার পুলিশ সবার মধ্যেই ধন্য ধন্য পড়ে গেল রমেশকে নিয়ে।