যশোরের মনিরামপুর উপজেলায় পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ৩৬ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে গুরুতর আহত তিনজনকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার ঝাপা, মনিরামপুর, বিজয়রামপুর, কাশিপুর, মনোহরপুর দুর্গাপুর ও মোহনপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় পাগলা কুকুরটি হঠাৎ মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে কামড়াতে শুরু করে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এতে পুরো উপজেলায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে প্রায় ৩৬ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। অনেককে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কুকুরটি কারও হাত, কারও মুখ ও কারও পায়ে কামড় দেয়।
আহতদের মধ্যে ২৫ জনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন— রায়হান হোসেন (৩৬), আজিজুল হক (৫০), রাফি হোসেন (৭), ফারাবি (৭), ইয়াসমিন (২৪), রকিবুল হাসান (৩০), মাসুদ হাসান (৫৪), আবু বকর (২৬), রামপদ দাস (৬০), বিষ্ণুপদ দাস (৩২), জামান হোসেন (৭০), হাসান আলী (৪২), হোসেন আলী (৬০), সামাদ (৭০), নাসিমা (৪০), সুমাইয়া (৫), আমেনা (৬), নুপুর (২৮), তামিম (১২), সোনিয়া খাতুন (১৮), বক্স মন বিশ্বাস (৫), তসলিম (৬০), আবু আনাস (১২), রিফাত (৬), আমিনুর (৩৬), তূর্যদাস (১৭), সোনিয়া (২৫), হাফিজুর (১২)সহ আরও অনেকে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অল্প সময়ের মধ্যে একাধিক মানুষ আক্রান্ত হওয়ায় এলাকায় চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি আহতদের মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে জলাতঙ্কের টিকা না থাকায় বিপাকে পড়েন রোগীরা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে টিকা না পেয়ে অনেককে বাইরে থেকে কিনে এনে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। এ ঘটনায় হাসপাতালে জলাতঙ্কের টিকা দ্রুত সরবরাহ এবং এলাকায় পাগলা কুকুর নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফাইয়াজ আহমদ ফয়সাল বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কুকুরে কামড়ানো রোগীরা হাসপাতালে আসছেন। কিন্তু আমাদের কাছে বর্তমানে জলাতঙ্কের টিকা নেই। ফলে রোগীরা বাইরে থেকে টিকা কিনে এনে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
