ট্রাম্পের কাছে ইরানের শীর্ষ নেতাদের হত্যার আহ্বান মার্কিন সিনেটরের

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:০২

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী রিপাবলিকান সিনেটর ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র লিন্ডসে গ্রাহাম ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রতি সরাসরি আহ্বান জানিয়েছেন। 

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে গ্রাহাম মন্তব্য করেন যে, ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর শীর্ষ নেতাদের হত্যা করা হলে দেশটিতে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ আরও শক্তিশালী হবে এবং এটি মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির পথ প্রশস্ত করবে। 

তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উদ্দেশে বলেন, সাধারণ মানুষকে যারা হত্যা করছে, সেই নেতৃত্বকেই লক্ষ্যবস্তু করা উচিত এবং এই নিপীড়ন বন্ধের এটাই কার্যকর উপায়। গ্রাহাম মনে করেন, এই শাসনব্যবস্থার পতন ঘটলে হিজবুল্লাহ ও হামাসের মতো সংগঠনগুলো দুর্বল হয়ে পড়বে এবং ইসরায়েল ও সৌদি আরবের মধ্যে শান্তি স্থাপিত হবে।

ইরানের চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে লিন্ডসে গ্রাহাম গত শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি পোস্টের মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন যে, ইরানি জনগণের ‘দীর্ঘ দুঃস্বপ্ন’ খুব দ্রুতই শেষ হতে চলেছে। 

গ্রাহামের মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন ‘ইরানকে আবারও মহান করে তুলুন’ স্লোগান দেন, তখন তিনি আসলে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সরকারের পতন এবং আন্দোলনকারীদের জয়কেই বোঝান। এই সিনেটর তার পোস্টে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকলে ইরান কখনোই উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারবে না এবং বিক্ষোভকারীদের সহায়তায় খুব শীঘ্রই যুক্তরাষ্ট্রের ‘সাহায্য’ আসছে।

গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে যে আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল, তা বর্তমানে ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নিয়েছে। তবে তেহরানের দাবি অনুযায়ী, এই অস্থিরতার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সরাসরি ইন্ধন রয়েছে। 

বিক্ষোভ দমনে গত বৃহস্পতিবার থেকে ইরান সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা প্রায় পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে, যার ফলে দেশটির প্রকৃত পরিস্থিতি ও হতাহতের সঠিক চিত্র পাওয়া বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি অনুযায়ী, ইতিমধ্যে এই বিক্ষোভে পাঁচ শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।

লুইন্ডসে গ্রাহামের এই উস্কানিমূলক বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কোনো একটি সার্বভৌম দেশের শীর্ষ নেতৃত্বকে হত্যার এমন প্রকাশ্য আহ্বান কূটনৈতিক শিষ্টাচারের চরম লঙ্ঘন এবং এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। 

একদিকে ইরানের অভ্যন্তরে দমন-পীড়ন এবং অন্যদিকে ওয়াশিংটন থেকে আসা সামরিক পদক্ষেপের হুমকি— সব মিলিয়ে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতি এখন একটি বড় ধরনের যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল

ইত্তেফাক/টিএইচ