বন্যায় গাইবান্ধায় ৪২৩ হেক্টর জমির রোপা আমন বীজতলা পচে গেছে। এছাড়া ৩১ হেক্টর জমির আগাম রোপা আমন ধান নষ্ট হয়েছে। এ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে ভাসমান বীজতলা প্রস্তুত করা হচ্ছে। কমিউনিটি বীজতলা তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ তথ্য জানিয়ে গাইবান্ধা কৃষি অধিদপ্তরের উপ পরিচালক এস এম ফেরদৌস বলেন, অনেক ব্যবসায়ীও জমি বর্গা নিয়ে ভাসমানসহ কমিউনিটি বীজতলা তৈরির প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। ব্রি-৫১ জাতের ধান বন্যা মোকাবিলায় অত্যন্ত উপযোগী। এই জাতের ধান ১৪ দিন পযন্ত পানিতে ডুবে থাকলেও ক্ষতির আশঙ্কা কম।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলার রামজীবন ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের কৃষক রাজু মিয়া জানান উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এসএম সরওয়ার হোসেন ও আব্দুর রাজ্জাক মিয়ার নিকট পরামর্শ নিয়ে আমি দুইটি ভাসমান বীজতলা তৈরি করেছি। প্রতিটি বীজতলায় প্রায় ১০ কেজি করে ধান বপণ করা হয়েছে। যদি কোনো দুর্যোগ না হয় তাহলে এ বীজ দিয়ে প্রায় দেড় একর জমিতে চারা লাগান যাবে।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, প্রথমে একাধিক কলাগাছ এক সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে। তার ওপর কুচুরিপানা বিছিয়ে দিতে হয়। এর ওপর ৪ থেকে ৫ ইঞ্চি পুরু কাদামাটি বিছিয়ে দিয়ে এই বীজতলা তেরি করা হয়। সেখানে ছিটানো হয় বীজ ধান। এভাবে সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ২৫টি ভাসমান বীজতলায় ইতিমধ্যে চারা গজিয়েছে। জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপ পরিচালক এস এম ফেরদৌস আরো জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার প্রতিটি ব্লকে ১০ হেক্টর করে আমন বীজতলা স্থাপনের চেষ্টা করছি। বন্যায় জেলায় নষ্ট হয়ে যাওয়া রোপা আউশ ধান ক্ষেতের পরিমাণ ৩ হাজার ৬১ হেক্টর, পাট ২ হাজার ৩৮৮ হেক্টর, রোপা আমন বীজতলা ৪২৩ হেক্টর, আগাম রোপা আমন ধান ৩১ হেক্টর, শাকসবজি ১ হাজার ১৩৫ হেক্টর, পানবরজ ৩ হেক্টর ও অন্যান্য ফসল ৪৬ হেক্টর।
