কোচের পদে ২ হাজার আবেদন!

তবুও কঠিন ভাবছেন না কপিল

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০১৯, ২১:০২

ভারতীয় কোচের আসনটা কে পেতে যাচ্ছেন? - সে নিয়ে জল্পনা কল্পনার কোনো শেষ নেই। যত দিন যাচ্ছে পদের জন্য লড়াইটা যেন ততই জমে উঠছে। এরই মধ্যে ভারতের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম মুম্বাই মিরর জানাল চাঞ্চল্যকর এক তথ্য। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নাকি এই পদের জন্য বোর্ড অব কনট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়ার (বিসিসিআই) দপ্তরে জমা পড়েছে ২ হাজারের মতো আবেদন।

এর মধ্যে ভারতীয় সাবেক ক্রিকেটার লালচাঁদ রাজপুত, রবিন সিংরা যেমন আছেন তেমনি আছেন নিউজিল্যান্ডের মাইক হেসন, অস্ট্রেলিয়ার টম মুডি কিংবা শ্রীলঙ্কার মাহেলা জয়াবর্ধনের মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কোচও।

আপাতত শাস্ত্রী, বোলিং কোচ ভারত অরুণ, ব্যাটিং কোচ সঞ্জয় ব্যাঙ্গার ও ফিল্ডিং কোচ এস. শ্রীধরের মেয়াদ ৪৫ দিন বাড়ানো হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরকে সামনে রেখে। সিরিজ চলবে আগামী তিন আগস্ট থেকে তিন সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ভারত নিজেদের মাটিতে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ শুরু করবে। এর আগেই কোচের নাম ঘোষণা করে দেবে বিসিসিআই।

কোচ শাস্ত্রী ও তার বর্তমান সহকর্মীরা সরাসরি সাক্ষাত্কার দেওয়ার সুযোগ পাবেন বিসিসিআইয়ের ক্রিকেট অ্যাডভাইসরি কমিটির (সিএসি) কাছে। তিন সদস্যের কমিটিতে আছেন বিশ্বকাপজয়ী প্রথম ভারতীয় অধিনায়ক কপিল দেব, সাবেক ওপেনার ও কোচ অংশুমান গায়কোড় ও ভারতীয় নারী ক্রিকেট দলের প্রথম অধিনায়ক শান্তা রঙ্গস্বামী।

কোচের আবেদনের লম্বা তালিকা থেকে বাছাই করা কয়েক জনের সাক্ষাত্কার নেবে সিএসি। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে সাক্ষাত্কারগুলো অনুষ্ঠিত হবে না। এই সাক্ষাত্কারকে সামনে রেখে অবশ্য বাড়তি কোনো চাপ অনুভব করছেন না সাবেক অধিনায়ক কপিল দেব। তিনি বলেন, ‘চাপ! কেন চাপ হবে? আমরা আমাদের দায়িত্বের ব্যাপারে সচেতন। এটা কঠিন কিছু নয়। আমরা নিজেদের সেরাটাই দিব। সেই যোগ্যতা আমাদের আছে। কঠিন তখনই হবে যখন আমরা নিজেদের দায়িত্বের ব্যাপারে সচেতন হব না।’

কয় দিন আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার আগে গণমাধ্যমকে বিরাট কোহলি বলে গেছেন যে, রবি শাস্ত্রীর সঙ্গে দলের বোঝাপড়া ভালো। তাই তাকে রেখে দিলেই খুশি হবেন বিরাট। কপিল দেব অধিনায়কের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তিনি বলেন, ‘বিরাট কোহলি তার নিজের মতামত দিয়েছে। এসব ক্ষেত্রে আমাদের সবার মতামতের প্রতিই শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে।’

এর আগে এই কমিটির দায়িত্বে ছিলেন শচিন টেন্ডুলকার, সৌরভ গাঙ্গুলি ও ভিভিএস লক্ষ্মণ। তারাই ২০১৬ সালে অনিল কুম্বলে ও এক বছর বাদে শাস্ত্রীকে নিয়োগ দিয়েছিলেন। ২০১৭ সালে সাবেক কোচ অনিল কুম্বলের বিদায়ের পর জুলাইয়ে কোহলিদের পছন্দের ভিত্তিতেই প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন শাস্ত্রী।

শাস্ত্রী এর আগেও ২০১৪ আগস্ট থেকে ২০১৬ জুন পর্যন্ত দলের ক্রিকেট পরিচালক ছিলেন। তার অধীনে ভারত ওয়ানডেতে অনেক বড়ো কোনো সাফল্য না পেলেও ধারাবাহিক ভাবে পারফরম করে গেছে। তবে, শাস্ত্রীর সবচেয়ে বড়ো অর্জন হলো প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ভারতকে টেস্ট সিরিজ জেতানো।