জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণভোটকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জোরালো প্রচারণা শুরু করেছে অন্তর্বর্তী সরকার, যা প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও নির্বাচন ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিভিন্ন মহলে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের পাশাপাশি চারটি প্রশ্নে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজে ফটোকার্ড ও ভিডিও বার্তা প্রকাশ করা হয়েছে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে নির্মিত ভিডিওতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আন্দোলনকারী, নিহতদের স্বজন এবং গুম কমিশনের সদস্যদের বক্তব্যের মাধ্যমে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরা হচ্ছে। প্রচারণায় বলা হচ্ছে, ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।
সরকারি উদ্যোগের অংশ হিসেবে ব্যাংক কর্মকর্তা, স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণায় যুক্ত হতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশে প্রতিটি ব্যাংক শাখায় ব্যানার টানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, পোশাক কারখানা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমেও প্রচার কার্যক্রম চলছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকার একটি রাজনৈতিক ও নীতিগত অবস্থান নিতে পারে, তবে নির্বাচন কমিশন এখন পর্যন্ত কেবল গণভোটের বিষয়বস্তু ও ভোট প্রদানের পদ্ধতি ব্যাখ্যা করে নিজেকে নিরপেক্ষ রাখছে। এখানেই সরকারের অবস্থান ও কমিশনের ভূমিকার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য তৈরি হচ্ছে।
তবে উদ্বেগের জায়গা তৈরি হচ্ছে মাঠ প্রশাসনকে ঘিরে। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা নির্বাচনকালীন সময়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন। এই কর্মকর্তারা যদি সরকারি প্রচারণায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন, তাহলে পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমের দাবি, সরকারের এই প্রচারণায় আইনি কোনো বাধা নেই। তবে সংবিধান ও আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আপাতদৃষ্টিতে আইনগত প্রতিবন্ধকতা না থাকলেও এ ধরনের রাষ্ট্রীয় প্রচারণা ভবিষ্যতে গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।
