ইরানে চলমান নজিরবিহীন সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও দমন-পীড়নের প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনের নেওয়া কঠোর অবস্থানের প্রতি জোরালো সমর্থন জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা একটি ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা ইরানের বিষয়ে মার্কিন অবস্থানকে সমর্থন করি। যে শাসনব্যবস্থা এত বছর ধরে টিকে আছে এবং এত মানুষকে হত্যা করেছে, সেটার পরিবর্তন হওয়া দরকার।’ মূলত ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার অন্যতম প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ হিসেবে তেহরানের ওপর আগে থেকেই ক্ষুব্ধ কিয়েভ, যা এই বার্তার মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হলো।
ইউক্রেনের এই সমর্থন এমন এক সময়ে এল যখন বিক্ষোভকারীদের ওপর ইরান সরকারের প্রাণঘাতী অভিযানের প্রতিবাদে ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ ইতিমধ্যে ইরানি রাষ্ট্রদূতদের তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে তেহরানের সঙ্গে সকল কূটনৈতিক আলোচনা ও বৈঠক বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, যতক্ষণ পর্যন্ত ইরানি কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকারীদের ওপর এই ‘নির্মম হত্যাকাণ্ড’ বন্ধ না করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো স্তরের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে না। ওয়াশিংটনের এই অনমনীয় মনোভাবের সঙ্গে কিয়েভের একাত্মতা প্রকাশের ফলে ইরান এখন আন্তর্জাতিকভাবে আরও বেশি কোণঠাসা হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের সরাসরি ইন্ধন জোগাতে ট্রাম্প তাঁদের প্রতি ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের দখলে নেওয়ার’ প্রকাশ্য আহ্বান জানিয়েছেন। গত মঙ্গলবার এক বার্তায় ট্রাম্প আন্দোলনকারীদের ‘দেশপ্রেমিক’ আখ্যা দিয়ে আশ্বাস দেন যে, ‘সাহায্য আসছে’। তিনি গত কয়েক দিন ধরে ইরানের ওপর সরাসরি সামরিক হামলার নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন বলে বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে।
ট্রাম্পের এই বার্তার পর জেলেনস্কির সমর্থন মূলত ইরান ও রাশিয়ার সামরিক অক্ষের বিরুদ্ধে পশ্চিমা জোটের একটি সমন্বিত চাপের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যারা আন্দোলনকারীদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে, তাদের নাম সংগ্রহ করে রাখা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে তাঁদের এর জন্য চরম মূল্য দিতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, জেলেনস্কি ইরানের ‘পরিবর্তন’ চাওয়ার পেছনে বড় কারণ হলো রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনে ইরানি ড্রোন ও মিসাইলের ব্যবহার। তেহরানে বর্তমান শাসনের পতন বা পরিবর্তন ঘটলে রাশিয়ার যুদ্ধ সক্ষমতা বড় ধরনের ধাক্কা খাবে—এমন হিসাব থেকেই কিয়েভ এখন সরাসরি ইরানের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহকে সমর্থন দিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক এই মেরুকরণ ইরান সংকটকে কেবল একটি দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা থেকে সরিয়ে বৈশ্বিক সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করছে। তেহরান অবশ্য শুরু থেকেই এই আন্দোলনকে বিদেশি ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করে দাবি করছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা পরিকল্পিতভাবে ইরানের সার্বভৌমত্ব নষ্ট করতে চাইছে।
সূত্র: আল জাজিরা

