আর বেশি সময় নেই—দরজায় কড়া নাড়ছে ফিফা বিশ্বকাপ। ইতিহাসে প্রথমবার ৪৮ দল নিয়ে আয়োজিত হতে যাচ্ছে এই ফুটবল মহাযজ্ঞ, যার লক্ষ্য বিশ্বব্যাপী আরও বেশি ভক্তকে সম্পৃক্ত করা। দলগুলোর প্রস্তুতির পাশাপাশি সমর্থকরাও তৈরি হচ্ছেন প্রিয় দলের খেলা মাঠে বসে দেখার জন্য। তবে উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপ ঘিরে একাধিক দেশের ভক্তদের মনে বাড়ছে উদ্বেগ—যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তাদের স্বপ্নে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
গত ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র সরকার আংশিক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত করে আফ্রিকার শক্তিশালী দুই ফুটবল দেশ সেনেগাল ও আইভরি কোস্টকে। মরক্কোয় অনুষ্ঠিত আফ্রিকান কাপ অব নেশন্সে এই দুই দেশের সমর্থকরা মাঠে উপস্থিত থেকে দলকে উজ্জীবিত করলেও বিশ্বকাপ নিয়ে তাদের দুশ্চিন্তা কমেনি। বিশেষ করে যারা এখনো যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাননি, তারা আদৌ বিশ্বকাপ দেখতে যেতে পারবেন কি না—তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।
মরক্কোর টাঙ্গিয়েরে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে সেনেগালের সমর্থক জিব্রিল গুয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি কিছু দেশের মানুষকে প্রবেশ করতে না দিতে চায়, তাহলে এমন বৈশ্বিক আয়োজন তাদের করা উচিত ছিল না। তার মতে, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া প্রতিটি দেশের সমর্থকদের জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত ও সুযোগ নিশ্চিত করা আয়োজক দেশের দায়িত্ব।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার পেছনে নিরাপত্তাজনিত যাচাই ও স্ক্রিনিং প্রক্রিয়ার ঘাটতির কথা উল্লেখ করেছেন। এই তালিকায় থাকা ইরান ও হাইতিও এবারের বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে, ফলে সেসব দেশের সমর্থকরাও উদ্বেগে রয়েছেন। যদিও খেলোয়াড়, টিম অফিসিয়াল এবং তাদের নিকটাত্মীয়রা এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবেন।
সেনেগালের নারী সমর্থক সংগঠনের সভাপতি ফাতো দিয়েদিউ বলেন, তারা বিশ্বকাপ দেখতে যেতে চান, কিন্তু কীভাবে যাবেন—তা এখনো পরিষ্কার নয়। তার ভাষায়, “আমরা শুধু অপেক্ষা করছি। হয়তো বিশ্বকাপের আগে সিদ্ধান্ত বদলাবে। এখন অপেক্ষা ছাড়া আমাদের কিছু করার নেই।”
আগামী ১৬ জুন নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফ্রান্সের বিপক্ষে বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ খেলবে সেনেগাল। চার দিন পর একই মাঠে তাদের প্রতিপক্ষ নরওয়ে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ২৬ জুন কানাডার টরন্টোতে বলিভিয়া, সুরিনাম ও ইরাকের প্লে-অফ জয়ীর মুখোমুখি হবে তারা। আইভরি কোস্টেরও দুটি ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রে—ফিলাডেলফিয়ায় ইকুয়েডর ও কুরাসাওয়ের বিপক্ষে এবং টরন্টোতে জার্মানির সঙ্গে।
আইভরি কোস্টের কোচ ইমার্স ফায়ে আশা করছেন, শেষ পর্যন্ত সমর্থকদের জন্য কোনো না কোনো সমাধান বের হবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, আফ্রিকান কাপের আগেও নতুন ভিসা শর্তের কারণে সমর্থকরা সমস্যায় পড়েছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা মাঠে উপস্থিত হতে পেরেছিলেন।
তবে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি আরেকটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে টিকিটের উচ্চমূল্য। ফরাসি নাগরিকত্বধারী সমর্থক পাপে বলেন, বিশ্বকাপ এখন অনেকটাই বাণিজ্যিক হয়ে গেছে, যেখানে সাধারণ সমর্থকদের কথা ভাবা হয়নি।
আইভরিয়ান সমর্থক টান দেটোপেউর আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ম্যাচগুলোতে তার দল খুব কম সমর্থক পাবে। তার মতে, নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও বিপুল খরচের কারণে অনেকেই বিশ্বকাপে যেতে পারবেন না।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নিষেধাজ্ঞায় থাকা দেশগুলোর সমর্থকদের গ্যালারিতে না পাওয়া দলগুলোর জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। কারণ মাঠে লড়াই করেন ফুটবলাররা, আর গ্যালারি থেকে তাদের লড়াইয়ের শক্তি জোগান দর্শকরাই।

