আমরা সবাই জানি—ডেঙ্গু একটি মশাবাহিত রোগ এবং অ্যাডিস নামক এক ধরনের মশা ডেঙ্গু জ্বরের বাহক। সাধারণত ডেঙ্গু হলে জ্বর আসবে, শরীর ব্যথা হবে, শরীরে র্যাশ দেখা দিবে অথবা চোখ লাল হবে বা মল বা স্টুলের রং কালো হবে ইত্যাদি। এসবই বই পুস্তকের কথা। তবে বিশেষজ্ঞগণ বলছেন—অল্প জ্বর, সামান্য গায়ে ব্যথা নিয়েও ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হচ্ছে। আর অন্যান্য সময়ের ডেঙ্গু জ্বরে রক্তের প্লাটিলেট পর্যায়ক্রমে হ্রাস পাওয়ার প্রবণতা থাকলেও এবার অনেক ক্ষেত্রে রক্তের প্লাটিলেট দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে রোগী দ্রুত শকে যাচ্ছে। এমনকি রক্তের প্লাটিলেটের পরিমাণ আশংকাজনকভাবে হ্রাস না পাওয়া সত্ত্বেও অনেক ক্ষেত্রে রোগীর অবস্থা খারাপ হচ্ছে। অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, ডেঙ্গুর টাইপ পরিবর্তন হয়েছে এবং মশা এখন অনেকটা অপ্রতিরোধ্য হয়ে পড়ছে।
এছাড়া, ডেঙ্গু চিকিত্সার জাতীয় গাইডলাইনও সব ক্ষেত্রে ফলো করা যাচ্ছে না। অবস্থা যাই হোক না কেন, বিশেষজ্ঞগণের পরামর্শ হচ্ছে জ্বর হলেই একে অবহেলা করা যাবে না। জ্বর, শরীর ব্যথা হলে সবই ডেঙ্গু হবে তাই নয়। তবে ডেঙ্গুর কথা মাথায় রেখেই প্রথমে জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ সেবন করতে হবে। সাথে সাথে প্রচুর পানি, ডাবের পানি ও খাবার স্যালাইন, তরল খাবার খাওয়া শুরু করতে হবে।
সম্ভব হলে দৈনিক ১০/১২ গ্লাস পানি পান করতে হবে। এছাড়া জ্বর শুরু হওয়ার তিন দিনের মধ্যে রক্তের সিবিসি পরীক্ষা করতে হবে। যদি জ্বর ও গায়ে ব্যথা থাকে এবং ডেঙ্গুর মতো মনে হয় তাহলে দ্রুত চিকিত্সকের পরামর্শ নিতে হবে। যদি দেখা যায় রক্তে প্লাটিলেট কাউন্ট স্বাভাবিকের চেয়ে কমে গেছে তাহলে ডেঙ্গু এনএস-১ টেস্ট করতে পারেন। তবে অনেক চিকিত্সক ডেঙ্গু শনাক্ত করতে সিবিসি ও এনএস-১ উভয় পরীক্ষাই করতে দেন। এতে কোনো সমস্যা নেই। আর ডেঙ্গু ধরা পড়লে অবশ্যই দ্রুত কোনো নিকটস্থ চিকিত্সা কেন্দ্র অথবা হাসপাতালে যেতে হবে। মনে রাখতে হবে সময়মতো চিকিত্সকের পরামর্শ নেওয়া গেলে রোগীকে সুস্থ করা সম্ভব।
লেখক : চুলপড়া, এলার্জি, চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ
