বন্যায় ১ হাজার ২০০ কি.মি. গ্রামীণ সড়কের ক্ষতি

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০১৯, ২১:২৫

বন্যার পর সিলেট বিভাগের বিভিন্ন রাস্তাঘাট ভেসে উঠলেও এখন চোখে পড়ে ভাঙাচোরা সড়ক। সিলেট বিভাগের চার জেলার ৩৬টি উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ২০০ কিলোমিটার (কি.মি.) সড়ক। কোনো কোনো এলাকায় সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বলতে গেলে নেই। কোথাও সড়কের পিচ উঠে গেছে, কোথাও পাহাড়ি ঢলে চিহ্ন মুছে গেছে, কোথাও সৃষ্টি হয়েছে বড়ো গর্ত। অনেক স্থানে ভাঙাচোরা গ্রামীণ সড়কগুলো দিয়ে এখন যানবাহন চলাচল করে না। এতে সিলেটের গ্রামীণ জনপদের লোকজনের যাতায়াতে দুর্ভোগের শেষ নেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিলেট বিভাগের চার জেলায় সম্প্রতিক বন্যায় আন্তঃ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের এক হাজার ১৭৯ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক বিধ্বস্ত হয়। টাকার অঙ্কে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩০০ কোটি টাকা।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় অফিস সূত্র জানায়, আন্তঃ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের সড়কগুলোর চিত্র তুলে ধরে প্রধান দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। লোকজন দুর্ভোগে আছেন। পানি কমে যাওয়ার পরই সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু হবে। সিলেট বিভাগের চার জেলার মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলায় সর্বোচ্চ ৮১৮ কিলোমিটার সড়ক বিধ্বস্ত হয়েছে পাহাড়ি ঢলে। মৌলভীবাজার জেলায় সর্বনিম্ন ক্ষতি হয়েছে ৩৪ কিলোমিটার।

এ ব্যাপারে এলজিইডির সুনামগঞ্জের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন জানান, সুনামগঞ্জের ক্ষতির পারিমাণ আরো বাড়বে। তিনি বলেন, বন্যার পানিতে কোনো কোনো স্থানে ব্রিজ, কালভার্ট পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক স্থানে আংশিক নষ্ট হয়েছে।

সিলেটস্থ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় অফিস সূত্র জানায়, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর বর্তমান চিত্র এরই মধ্যে এলজিইডির প্রধান দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। বন্যার পানি পুরোদমে সরে গেলে ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত পরিমাণ নিরূপণ করা যাবে এবং সংস্কারের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা হবে।

চলতি বন্যায় সিলেট বিভাগের চার জেলার ৩৬ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সড়কগুলো নিমজ্জিত হয়। এর ফলে সড়কগুলোর কার্পেটিং, ইট-পাথর উঠে মাটি সরে যায়। অনেক সড়কে তৈরি হয়েছে অসংখ্য গর্ত। বিশ্বনাথ-জগন্নাথপুর সড়ক, বিশ্বম্ভরপুর-তাহিরপুর সড়কের অবস্থা করুণ।

তাহিরপুরের উপজেলা চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল ইত্তেফাককে বলেন, ‘জেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষাকারী এলজিইডি নির্মিত বিশ্বম্বপুর-আনোয়ারপুর এক কিলোমিটার সড়ক বন্যার পানির তোড়ে ভেসে গিয়ে গর্ত সৃষ্টি হলে ২০ দিন সড়কটি বন্ধ ছিল।’

তিনি বলেন, ‘উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে গর্ত ভরাট করে কোনো রকমে সড়ক চালু করা হয়েছে।’ উপজেলা চেয়ারম্যান বলেন, ‘এই সড়কটি স্থায়ীভাবে রক্ষার জন্য এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এলাকা পরিদর্শন করেছেন। কিন্তু কবে যে কাজ শুরু হয়!’ তিনি জানান, তাহিরপুর সীমান্ত সড়কটি একেবারে চলার অনুপযোগী হয়ে আছে।

এলজিইডি সূত্র জানায়, সুনামগঞ্জ জেলার ১১ উপজেলার ২৭৫টি সড়কের ৮১৮ দশমিক ১৪ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ জেলার সড়ক বিধ্বস্ত হয়ে মোট ১৯০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। সিলেট জেলার ১৩ উপজেলায় মোট ২৬১ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার সড়ক বিধ্বস্ত হয়। এর ফলে প্রায় ৮০ কোটি টাকার ও বেশি ক্ষতি হয়েছে।

হবিগঞ্জ জেলার ৮ উপজেলার ৫৩টি সড়কে ৬৫ দশমিক ৮৬ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে প্রায় ১২ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। মৌলভীবাজার জেলার চার উপজেলার ১০ সড়কে ৩৪ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় আট কোটি টাকা। চার জেলায় বন্যাকবলিত ৩৬ উপজেলার মধ্যে সর্বোচ্চ ১৮৫ কিলোমিটার সড়ক বিধ্বস্ত হয়েছে দোয়ারাবাজার উপজেলায়। আর সর্বনিম্ন দুই কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয় শ্রীমঙ্গল উপজেলায়।