যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিস শহরে অভিবাসন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে চলমান ব্যাপক বিক্ষোভ মোকাবিলায় এবার সরাসরি সামরিক বাহিনী মোতায়েনের হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প জানান, যদি স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়, তবে তিনি ‘ইনসারেকশন অ্যাক্ট’ বা বিদ্রোহ দমনের আইন প্রয়োগ করে মিনেসোটায় সেনাবাহিনী পাঠাবেন।
সপ্তাহখানেক আগে এক মার্কিন নাগরিক নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই আন্দোলন বর্তমানে সহিংস রূপ নিয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্প ইতিমধ্যে প্রায় তিন হাজার ফেডারেল কর্মকর্তা সেখানে পাঠিয়েছেন। রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির তথ্য পাওয়া গেছে।
মিনিয়াপোলিসে উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে যখন রেনে গুড নামে এক মার্কিন নাগরিক ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট’ (আইসিই) এজেন্টের গুলিতে প্রাণ হারান। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বৃহস্পতিবার নতুন করে এক ভেনেজুয়েলান নাগরিক ফেডারেল কর্মকর্তাদের গুলিতে আহত হয়েছেন।
সরকারি ভাষ্যমতে, ওই ব্যক্তি গাড়ি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে এজেন্টরা গুলি চালায়, যা তার পায়ে লাগে। ট্রাম্প এই পরিস্থিতির জন্য মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট নেতাদের দায়ী করে তাদের ‘দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, আইসিই কর্মকর্তাদের ওপর হামলা না থামলে তিনি সামরিক হস্তক্ষেপের পথে হাঁটবেন।
বর্তমানে মিনিয়াপোলিসের বরফে ঢাকা রাস্তায় হাজার হাজার ফেডারেল কর্মকর্তা সামরিক পোশাক ও অস্ত্র হাতে টহল দিচ্ছেন। তাদের উপস্থিতির প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা দিন-রাত বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন। বুধবার রাতে এক ভেনেজুয়েলান নাগরিক গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর বিক্ষোভকারীরা আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন, যা ছত্রভঙ্গ করতে কর্মকর্তারা সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদুনে গ্যাস ব্যবহার করেন।
বিক্ষোভের এক পর্যায়ে একদল আন্দোলনকারী একটি গাড়ি ভাঙচুর করে এবং সেখানে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী ক্রিস্টি নোমের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক গ্রাফিতি লিখে ক্ষোভ প্রকাশ করে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মিনিয়াপোলিসে বিক্ষোভ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ফেডারেল কর্মকর্তারা এখন অভিবাসীদের পাশাপাশি সাধারণ বিক্ষোভকারীদেরও নির্বিচারে আটক করছেন। অনেক ক্ষেত্রে লোকজনকে গাড়ি থেকে টেনে নামানো বা বাসাবাড়িতে অতর্কিত তল্লাশি চালানোর মতো ঘটনাও ঘটছে।
বিশেষ করে কৃষ্ণাঙ্গ ও লাতিনো নাগরিকদের থামিয়ে নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র যাচাই করার অভিযোগ উঠেছে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে। ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থান এবং সামরিক বাহিনী মোতায়েনের হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য শহরেও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে, যেখানে ইতিমধ্যে এই আন্দোলনের সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
