নেতানিয়াহুর সঙ্গে ছবি তুলতে চায় না বিশ্বনেতারা: তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ২১:১৯

বিশ্বের কোনো নেতাই আর ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে প্রকাশ্যে ছবি তুলতে আগ্রহী নন—এমন মন্তব্য করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তিনি বলেন, আগ্রাসী সামরিক নীতি অনুসরণ করে নেতানিয়াহু ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিকভাবে ক্রমেই কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতার দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ইস্তাম্বুলে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমান বাস্তবতায় ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা শুধু তুরস্কের জন্য নয়, বরং বিশ্বের বহু দেশের জন্যই কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

হাকান ফিদান বলেন, “গাজায় ইসরাইলের চলমান সামরিক অভিযান ও গণহত্যা যতদিন চলবে, ততদিন আমাদের জন্যই নয়—অনেক দেশের পক্ষেই ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে না।”

নেতানিয়াহুর সঙ্গে ইউরোপীয় নেতাদের প্রকাশ্য যোগাযোগে অনীহার বিষয়টি তুলে ধরে ফিদান বলেন, “খুব কম নেতাই এখন ইসরায়েলে সফর করতে বা নেতানিয়াহুর সঙ্গে ছবি তুলতে চান। বাস্তবে এখন আর কেউ সেখানে যাচ্ছে না।”

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, “কেন তারা যাচ্ছেন না? কারণ ইউরোপীয় নেতারা নির্বাচিত প্রতিনিধি। তারা জানেন, নেতানিয়াহুর সঙ্গে ছবি তোলা রাজনৈতিকভাবে সঠিক নয়।”

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই প্রবণতা ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক একঘরে হয়ে পড়ার স্পষ্ট প্রমাণ। এমনকি ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশগুলোর মধ্যেও নেতানিয়াহুকে নিয়ে সতর্কতা বাড়ছে।

ফিদান বলেন, “তিনি কি যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বাস্তবসম্মতভাবে কোনো দেশে যেতে পারবেন? সম্ভবত পারবেন না। হয়তো কেবল গ্রিসে যেতে পারেন।”

ফিদানের মতে, বর্তমানে গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা বৈদেশিক নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক হয়ে উঠেছে। নেতারা এখন কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের ভোটারদের সংবেদনশীলতা ও প্রত্যাশাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে হাকান ফিদান ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের সামরিক অভিযানের তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি জানান, এই সংকট নিরসনে তুরস্ক কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখবে।

একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “ইরানের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো তাদের নিজেদেরই সমাধান করতে হবে।”

ইত্তেফাক/এএম