৫ লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে সুনামগঞ্জ থেকে অপহূত দুই কয়লা ব্যবসায়ীকে বাগেরহাট থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসময় তিন অপহরণকারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার বাগেরহাট সদর মডেল থানায় বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। এ সময় সদর থানার ওসি মো. মাহাতাব উদ্দীনসহ পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলো মো. তুহিন শিকদার, পারভেজ হাওলাদার ও মো. আজগর আলী।
প্রেস ব্রিফিংয়ে বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল বলেন, গত ৩০ জুলাই সুনামগঞ্জের তাহেরপুর উপজেলার টেকেরহাটের মাটিকাটা এলাকার কয়লা ব্যবসায়ী নুরুল আলম ও মুসলিম মিয়ার সঙ্গে পিরোজপুর জেলার তুহিন ওরফে সৈকত শিকদারের মোবাইল ফোনে পরিচয় হয়। এই সৈকত শিকদার নিজেকে ইটভাটার মালিক পরিচয় দিয়ে তাদের কাছ থেকে কয়লা কেনাবেচা করতে আগ্রহ দেখালে পরদিন তারা সৈকতের সঙ্গে ব্যবসায়িক চুক্তি করতে পিরোজপুর বাসস্ট্যান্ডে আসেন। পিরোজপুরে আসার পর সৈকতের ভাগ্নে পরিচয় দিয়ে রাজু নামে এক যুবক ওই দুই ব্যবসায়ীকে বাসস্ট্যান্ড থেকে লঞ্চঘাটে নিয়ে যায়। সেখানে আসার পর তাদের ইটভাটা দেখানোর কথা বলে ট্রলারে উঠিয়ে নিয়ে অস্ত্রের মুখে হাত-পা বেঁধে মারধর করে এবং তাদের কাছে থাকা ব্যাংকের চারটি চেক ও নগদ ৪০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। পরে এই অপহরণকারীরা তাদের কাছে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। ব্যবসায়ীরা ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে রাজি হয়ে তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
অপহূত ব্যবসায়ীদের পরিবার ঘটনাটি পুলিশকে জানালে পুলিশ মুক্তিপণের ৫ লাখ টাকা এসএ পরিবহনের মাধ্যমে ওই অপহরণকারীদের দিতে বলে ফাঁদ পাতে এবং অপহরণকারীদের গতিবিধি মনিটরিং করতে থাকে। মুক্তিপণের ওই টাকা অপহরণকারীরা এসএ পরিবহনে নিতে এলে পুলিশ তাদের ধরে ফেলে। পরে তাদের দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ থেকে অপহূতদের উদ্ধার করে। এ ব্যাপারে তাহেরপুর থানায় মামলা হয়েছে।
