গ্রিনল্যান্ড ইস্যু

‘বাবা’ ট্রাম্পের সঙ্গে বিবাদে না জড়াতে ইউরোপকে রুশ দূতের উপহাস

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:২৯

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে বিরোধের জেরে ইউরোপের আটটি দেশের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় দেশগুলোকে বিদ্রূপ করেছেন রুশ প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিভ। 

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে দিমিত্রিভ ইউরোপীয় নেতাদের সতর্ক করে বলেন, তাদের উচিত হবে না ‘নিজেদের বাবাকে’ (ডোনাল্ড ট্রাম্প) উসকানি দেওয়া। তিনি ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতিকে গ্রিনল্যান্ডে ইউরোপীয় দেশগুলোর সেনা মোতায়েনের সরাসরি সাজা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। 

এর আগে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে ট্রাম্পকে ‘ড্যাডি’ বা বাবা বলে সম্বোধন করেছিলেন, সেই প্রসঙ্গটি টেনেই দিমিত্রিভ এমন কটাক্ষ করেন বলে আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার ঘোষণা করেছেন, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রিটেন, নেদারল্যান্ডস এবং ফিনল্যান্ডের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। গ্রিনল্যান্ডে এই দেশগুলোর ‘বিপজ্জনক সামরিক উপস্থিতির’ কারণে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে বলে দাবি করেন ট্রাম্প। 

তিনি আরও জানান, যদি কোনো সমঝোতা না হয় তবে পহেলা জুন থেকে এই শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে। ট্রাম্পের স্পষ্ট বার্তা হলো, যতক্ষণ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডকে সম্পূর্ণভাবে কিনে নেওয়ার সুযোগ না পাচ্ছে, ততক্ষণ এই শুল্ক কার্যকর থাকবে। ট্রাম্প দীর্ঘ দিন ধরেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই আর্কটিক অঞ্চলটি ডেনমার্কের কাছ থেকে কিনে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছেন।

রুশ ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের প্রধান এবং ইউক্রেন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার প্রতিনিধি দলের সদস্য কিরিল দিমিত্রিভ এই পরিস্থিতির গাণিতিক ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন যে, গ্রিনল্যান্ডে পাঠানো প্রতিজন সেনার জন্য প্রায় ১ শতাংশ করে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। 

তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোর এই কর্মকাণ্ডকে একটি ‘বিপজ্জনক খেলা’ হিসেবে অভিহিত করেন। দিমিত্রিভের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন ইউরোপকে এটা বুঝিয়ে দিচ্ছে যে মার্কিন স্বার্থের বাইরে গিয়ে কোনো পদক্ষেপ নিলে তার চড়া মূল্য দিতে হবে। রাশিয়ার এই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার এমন মন্তব্য মূলত ট্রান্স-আটলান্টিক বা যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ সম্পর্কের ফাটলকে আরও উসকে দেওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

গ্রিনল্যান্ড একটি স্বায়ত্তশাসিত ডেনিশ অঞ্চল হলেও ট্রাম্প একে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে অপরিহার্য বলে মনে করেন। তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, গ্রিনল্যান্ড ক্রয় সংক্রান্ত চুক্তি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ইউরোপীয় দেশগুলোকে এই অর্থনৈতিক চাপের মধ্য দিয়েই যেতে হবে।

এদিকে ট্রাম্পের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে ইউরোপের প্রধান অর্থনীতির দেশগুলো বড় ধরনের বাণিজ্যিক ক্ষতির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ মিত্রদের ওপর এমন কঠোর শুল্ক আরোপ আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক নতুন সংকটের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

ইত্তেফাক/টিএইচ