মাঝেরচরে কয়েক হাজার মানুষ বসবাস কিন্তু নেই প্রাথমিক বিদ্যালয়

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩:৫০

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়নের মাঝেরচর গ্রামে পাচঁশ পরিবারের বসবাস। এর মধ্যে এখানে নারী পুরুষ প্রায় ৩ হাজার পাঁচশ জনের বসবাস। শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছয়শতাধিক। এর মধ্যে প্রায় একশতজন ছোট বড় শিক্ষার্থীরা বড় নদী নৌকায় করে খেয়া পার হয়ে আশে পাশের বিদ্যালয়ে কোন রকম পাঠদান করে থাকে। তবে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকায় শিশুরা প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বেসরকারিভাবে একটি সাইক্লোন শেল্টারে কিছুদিন পাঠদান চললেও এখন তা বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, গ্রামে সরকারি বা বেসরকারি কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। আগে একটি এনজিও শিশুদের জন্য অস্থায়ীভাবে পাঠদান চালু করলেও সেটি বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে শিশুদের পড়াশোনার জন্য আর কোনো ব্যবস্থা নেই।

মাঝেরচর গ্রামটি খরস্রোতা বিষখালী নদীর মাঝখানে অবস্থিত। গ্রামের ছোট-বড় সবাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হয়ে বাজার ও পারিবারিক কাজের জন্য যাতায়াত করেন। বিদ্যালয়ে যেতে হলে শিশুদের এই ঝুঁকিপূর্ণ নদী পারাপার করতে হয়। বর্ষা মৌসুম ও ঝড়-তুফানের সময় এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। অনেক অভিভাবক নিরাপত্তার কারণে সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে পারছেন না।

এলাকাবাসী জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভাবে অনেক শিশু অল্প বয়সেই পড়াশোনা ছাড়ছে। কেউ কেউ পরিবারের কাজে যুক্ত হচ্ছে। এতে চরাঞ্চলের একটি বড় অংশের শিশু শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

৬ ও ৮ বছরের দুই সন্তানের অভিভাবক নিজাম উদ্দিন মিয়া বলেন, আমার শিশুসন্তান প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ে। এত বড় নদী পারাপারের ঝুঁকির কারণে প্রতিদিন তাদের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকি। মাঝেরচরে যদি একটি বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়, তাহলে শিশুদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সহজ হবে।

পাথরঘাটা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জিনাত জাহান বলেন, আমি পাথরঘাটায় নতুন যোগদান করেছি। এ ধরনের একটি গ্রামে কোনো বিদ্যালয় নেই, এটা আমার পুরোপুরি জানা ছিল না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব।

পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইশরাত জাহান বলেন, মাঝেরচর গ্রামে কয়েক হাজার মানুষের বসবাস রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে সেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এএইচপি