কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের ৩টি নির্বাচনী কার্যালয় ও জামায়াত সমর্থকদের কয়েকটি স্থাপনায় রাতের আঁধারে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। আগুন দেওয়া হয়েছে একটি মহিলা মাদ্রাসার বাসে।
অন্যদিকে পৃথক ঘটনায় দুই বিএনপি কর্মীর বাড়িঘরে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে জামায়াতের কর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অন্তত ৮ জন।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাতে ও সোমবার দুপুরে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার পৃথক স্থানে এসব ঘটনা ঘটে। আগুন দেওয়ার ঘটনায় বিএনপি জড়িত বলে দাবি করেছে উপজেলা জামায়াত।
তবে বিএনপি এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, জামায়াত সমর্থকরা বিএনপি কর্মীদের বাড়িতে ভাংচুর চালিয়েছে। এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. কামরুল হুদা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেলে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ধনিজকরা গ্রামে জামায়াত সমর্থক এক যুবককে মারধর করে বিএনপির লোকজন। এর জেরে রাতে ধনিজকরা গ্রামে বিএনপি সমর্থক বাচ্চু মিয়া ও মাদু মিয়ার বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর করে জামায়াত সমর্থকরা। এ ঘটনার জেরে সোমবার দুপুরে ধনিজকরা বাজারে উভয়পক্ষের হামলায় উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক গাজী ইসমাইল, ছাত্রদল নেতা শাহাদাত হোসেন ও জামায়াত সমর্থক তাসকিনসহ অন্তত ৮ জন আহত হয়েছে।
জামায়াত নেতাকর্মীদের ভাষ্য, রোববার গভীর রাতে ধনিজকরা, সমেষপুর ও গাছবাড়িয়ায় তাদের নির্বাচনী অফিসে আগুন দেওয়া হয়। এ ছাড়াও গাছবাড়িয়া এলাকার জামায়াত সমর্থক ব্যবসায়ী নাছির উদ্দিনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন দেওয়া হয়। বাতিসা ইউনিয়নের নানকরা এলাকায় অবস্থিত আয়েশা ছিদ্দিকা (রা.) মহিলা মাদ্রাসায় ছাত্রী পরিবহন বাসে আগুন দেওয়া হয়।
ওই মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা জামায়াত সমর্থিত সংগঠন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মো. মজিবুর রহমান ভুঁইয়া বলেন, রাজনৈতিক কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আক্রমন দু:খজনক। এ মাদরাসায় ৭ শতাধিক ছাত্রী আছে। রাতে দুর্বৃত্তরা বাসে আগুন দিয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন তিনি। এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার দুপুরে মাদ্রাসাটির শিক্ষক-শিক্ষার্থী অভিভাবকরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে। তারা দুর্বৃত্তদের গ্রেপ্তা করতে প্রশাসনের কাছে দাবি জানান।
আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত গাছবাড়িয়া গ্রামের মুদি দোকানী নাছির উদ্দিন বলেন, মোটর সাইকেলে করে আসা মুখোশ পরিহিত তিনজন রাত ২টার দিকে জামায়াত অফিসে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। এতে জামায়াত অফিস ও পাশেই আমার মুদি দোকান পুড়ে ছাঁই হয়ে যায়। আমি এ ঘটনার তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. বেলাল হোসাইন বলেন, আমাদের তিনটি নির্বাচনী অফিস ও সমর্থকদের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা ও আগুন দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি জড়িত। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে সহিংস ঘটনা সংঘটিত করা হচ্ছে। এ বিষয়ে থানায় লিখিতভাবে অভিযোগ দিবো।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শাহ আলম রাজু বলেন, ‘রোববার রাতে জামায়াতের সশস্ত্র নেতাকর্মীরা ধনিজকরা গ্রামে বিএনপির সমর্থক বাচ্চু মিয়ার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করে। একইসঙ্গে স্থানীয় বাজারের পার্টি অফিসও ভাঙচুর করে। বিএনপিকে ফাঁসানোর জন্য এমন ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। এসব ঘটনায় বিএনপির কেউ জড়িত নয়।’
চৌদ্দগ্রাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. গুলজার আলম বলেন, অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুরের ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
