দিল্লি বইমেলার শেষ দিনে বিশৃঙ্খলা ও স্টল লুটের ভিডিও ভাইরাল

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২১:১০

ভারতের রাজধানী দিল্লির প্রগতি ময়দানে আয়োজিত বিশ্ব বইমেলার শেষ দিনে চরম বিশৃঙ্খলা ও বই লুটের ঘটনা ঘটেছে। গত ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ভারত মান্ডপম কনভেনশন সেন্টারে চলা এই মেলার শেষ দিন অর্থাৎ রবিবার বিশাল জনতা কয়েকটি বইয়ের স্টলে হামলে পড়ে বই ছিনিয়ে নিতে শুরু করে। 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে, লোকজন স্টলের সামনে ঝাঁপিয়ে পড়ছে এবং মারমুখীভাবে বই লুট করছে। এই ঘটনায় মেলায় আসা সাধারণ দর্শকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। টাইমস নাউ ডিজিটালের এক প্রতিবেদনে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছে।

ভাইরাল হওয়া ক্লিপগুলোতে দেখা যায়, তথাকথিত শিক্ষিত ও সচেতন পাঠক সমাজ বই মেলা প্রাঙ্গণে চরম অসভ্যতা ও গুণ্ডামির আশ্রয় নিয়েছে। এই দৃশ্য দেখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, ‘আমাদের কী হয়েছে? দিল্লির বইমেলার শেষ দিনে এসব দৃশ্য দেখে মনে হচ্ছে এটি আমাদের জাতির নৈতিক অবক্ষয়।’ 

অন্য এক ব্যবহারকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘ভারতের মানুষ প্রতি মুহূর্তেই নাগরিক শিষ্টাচার বিসর্জন দিচ্ছে। চুরি করার সামান্য সুযোগ পেলেই আমরা যেন পশুর মতো আচরণ শুরু করি।’ অনেকে আবার কয়েক দিন আগে মেলায় গিয়ে ভালো অভিজ্ঞতার কথা জানালেও শেষ দিনের এমন হুলিগানিজম বা অসভ্যতায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

ন্যাশনাল বুক ট্রাস্ট (এনবিটি) এবং ভারত সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে আয়োজিত এই নয় দিনের মেলায় ৩৫টিরও বেশি দেশের ১ হাজারের বেশি প্রকাশক অংশ নিয়েছিলেন। পুরো মেলা জুড়ে প্রায় ৬০০টি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় যেখানে অংশ নেন প্রায় ১ হাজার বক্তা। 

গত বছর এই মেলায় ২০ লাখেরও বেশি দর্শনার্থীর সমাগম হয়েছিল এবং এবারও সেই ধারা বজায় ছিল। এমনকি মেলা শেষ হওয়ার একদিন আগে গত শনিবার ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও মেলা প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করেছিলেন এবং তাঁর অভিজ্ঞতার কথা সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেছিলেন।

দিল্লি বিশ্ব বইমেলা ভারতের সংস্কৃতি ও পাঠভ্যাস প্রসারের একটি বড় মাধ্যম হলেও শেষ দিনের এই অরাজকতা ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং জনশৃঙ্খলার বিষয়টি নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বিশাল জনসমুদ্র সামাল দিতে কর্তৃপক্ষের গাফিলতি এবং সাধারণ মানুষের আচরণগত সমস্যাকে এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করছেন বিশ্লেষকরা। 

এই ঘটনার পর বৃহৎ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি উঠেছে। মেলা শেষ হলেও স্টল লুটের এই ভিডিওগুলো এখন ইন্টারনেটে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে, যা দিল্লির বইমেলার দীর্ঘদিনের সুনামকে কিছুটা হলেও ম্লান করে দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস নাউ ডিজিটাল

ইত্তেফাক/টিএইচ