নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রদত্ত তথ্য যাচাই-বাছাই শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নিবন্ধিত কোনো রাজনৈতিক দল শর্তপূরণে ব্যর্থ হলে নিবন্ধন বাতিল করবে ইসি। পর্যায়ক্রমে কমিশনে নিবন্ধিত ৪২টি রাজনৈতিক দলের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। প্রথমে ২০০৮ সালের ১৩ নভেম্বর নিবন্ধিত প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের (পিডিপি) কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ে দলের অফিসের ঠিকানা চেয়ে চিঠি দিয়েছে কমিশন। যদিও প্রথমদফা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইসির চিঠির জবাব দেয়নি দলটি। পরে সময়বৃদ্ধি করা হলেও এখনো পর্যন্ত ইসিতে প্রয়োজনীয় তথ্য জমা হয়নি। ইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসির উপ-সচিব মো. আব্দুল হালিম খান ইত্তেফাককে বলেন, প্রয়োজনীয় তথ্য চেয়ে নিবন্ধিত দল পিডিপিকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এখনো আমরা চিঠির জবাব পায়নি। ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, নিবন্ধন নেয়ার সময় দলগুলো কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও জেলা কার্যালয়ের ঠিকানা, নতুন কমিটির তালিকাসহ বেশকিছু তথ্য সময় সময় নির্বাচন কমিশনে দাখিল করবে বলে শর্ত মেনেছিল। কিন্তু বিভিন্ন দল এসব বিষয়ে ইসিকে এখনো কোনো তথ্যই অবহিত করছে না। যা নিবন্ধনের শর্ত না মানার শামিল। এজন্য নিবন্ধন বাতিলের ক্ষমতাও রয়েছে নির্বাচন কমিশনের।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ এর ৯০ (বি) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নিবন্ধন পেতে হলে কোনো দলের একটি কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও একটি কেন্দ্রীয় কমিটি থাকতে হয়। একইসঙ্গে দেশের অন্তত এক তৃতীয়াংশ জেলায় দলীয় কার্যালয় এবং অন্তত ১০০টি উপজেলায় ২০০ সদস্য থাকতে হয়। যে সদস্যদের আবার সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার হতে হবে। এই শর্ত পূরণ না করলে কোনো দল নিবন্ধন পাবে না। পরবর্তীতে যদি এসব তথ্যের কিছু পরিবর্তন হয়ে থাকে, তবে দলগুলো সময় সময় হালনাগাদ তথ্য দেবে বলেই নিবন্ধন নিয়েছে নির্বাচন কমিশন থেকে। কিন্তু ৪২টি দলের মধ্যে অনেক দলেরই বর্তমানে কার্যালয় নেই বলে ইসির পর্যবেক্ষণে এসেছে। তাই এবার সেসব দলের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।
এর আগে ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন প্রথা চালু করে ইসি। প্রথম বছরে ১১৭টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ৩৯টি দল নিবন্ধন পায়। এর মধ্যে স্থায়ী সংশোধিত গঠনতন্ত্র দিতে না পারায় ২০০৯ সালে ফ্রিডম পার্টির নিবন্ধন বাতিল করে ইসি। আর আদালতের আদেশে ২০১৩ সালে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করা হয়। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি-বিএনএফ ও বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তজোট নিবন্ধন পেয়েছিল। এর আগে ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল) নামে নতুন একটি দলের নিবন্ধন দেয়া হয়। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নতুন দলের নিবন্ধন আহবান করা হলেও কোনো শর্তপূরণ করতে না পারায় কোনো রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন দেয়নি ইসি। পরবর্তী আদালতের আদেশে বাংলাদেশ কংগ্রেস ও জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে (এনডিএম) নিবন্ধন দেয় ইসি। বর্তমানে ইসির নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৪২টি। ২০০৮ সালে নিবন্ধন নেয়ার পর থেকে অনেক দলই তাদের হালনাগাদ করা বিভিন্ন তথ্য নির্বাচন কমিশনে দাখিল করেনি। এমনকি কিছু কিছু দল নিবন্ধনের শর্তও মানছে ঠিকমতো। তাই দলগুলোর নিবন্ধন শর্ত যাচাইয়ে নামছে ইসি।
