বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের সদস্যদের বিরুদ্ধে বয়স্ক ভাতার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। তারা জয়শুরকাঠী গ্রামের ৩ জন বয়স্ক ভাতাভোগীর টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
নতুন ভাতাভোগী জয়শুরকাঠী গ্রামের আইউব আলী সরদার অভিযোগ করে বলেন, ‘এক হাজার টাকা উৎকোচের বিনিময়ে ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য খোকন শিকদার আমার নাম বয়স্ক ভাতার তালিকায় অর্ন্তভূক্ত করে। গত ২৮ জুলাই আমি অগ্রণী ব্যাংকের বাটাজোর শাখা থেকে বয়স্ক ভাতার ছয় হাজার টাকা উত্তোলণ করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেই। পথিমধ্যে মেম্বার খোকন শিকদার বাটাজোর বাসস্ট্যান্ডের একটি বাস কাউন্টারের আমাকে ডেকে নিয়ে ব্যাংক থেকে উত্তোলনকৃত ছয় হাজার টাকা ও ভাতার বই নিয়ে যায়।’
একই গ্রামের রবীন্দ্র নাথ শিউলীর স্ত্রী চাতক রানী শিউলী জানান, তার স্বামীর কাছ থেকেও একইভাবে বয়স্ক ভাতার ছয় হাজার টাকা ও ভাতা বই নিয়ে গেছে মেম্বার খোকন। তিনি বলেন, ‘এক বছর আগে তার প্রতিবন্ধী পুত্রের নাম ভাতার তালিকায় অর্ন্তভূক্ত করার জন্য খোকন শিকদার দুই হাজার টাকা নিয়েও তালিকায় নাম অর্ন্তভূক্ত করেনি।’
একই গ্রামের রিপন চন্দ্র ঘরামী জানান, তার মা পুষ্প রানীর নামের বয়স্ক ভাতার ছয় হাজার টাকা ব্যাংক থেকে উঠানোর পর তার কাছ থেকেও বই ও টাকা নেয় মেম্বার খোকন। বিষয়টি বাটাজোর ইউপির চেয়ারম্যানকে জানানোর পর টাকা ও বই ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছে খোকন শিকদার।
এ প্রসঙ্গে জানতে মোবাইল ফোন করা হলে ইউপি সদস্য খোকন শিকদার অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেন, ‘এটা মেম্বার আর জনগণের বিষয়। আপনাদের বিষয় না। আমার লোক তো তারা। ভাতা বইতে স্বাক্ষর বাকি থাকার কারণে টাকা ও ভাতা বই রাখা হয়েছিলো। তা ঠিক করে সবই আজ বৃহস্পতিবার ফেরত দেওয়া হয়েছে। বেশী উপকার করলে যা হয়। ভোটের আশায় আমি জনগণের উপকার করে থাকি, আমি তো নতুন মেম্বার নই।’
আরও পড়ুন: বঙ্গবন্ধুর খুনি নূর চৌধুরীর টরন্টোস্থ বাসার সামনে সরেজমিনে
বাটাজোর ইউপির চেয়ারম্যান আব্দুর রব হাওলাদার সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ ব্যাপারে একজনের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে ইউপি সদস্য খোকন শিকদারকে গালমন্দ করেছি। তবে টাকা ফেরত দিয়েছে কিনা বিষয়টি আমার জানা নেই।’
ইত্তেফাক/নূহু
