পুরুষের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চারা বিক্রি করছেন নারী কৃষক গুল রায়হান

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০১৯, ০০:০৪

কৃষি কাজে আধুনিক কলাকৌশল ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষির সর্ব ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী একজন অগ্রগামী সফল নারী কৃষক উপজেলার ব্রাক্ষন্দী ইউনিয়নের সুলতানপদি গ্রামের গুল রায়হান। তিনি তার বসতবাড়িসহ মাঠের ১০ একর জমিতে বিভিন্ন মৌসুমে ধান, ডালজাতীয় ফসল ও সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। একজন সফল ও আত্মপ্রত্যয়ী নারী গুল রায়হান শুধু নিজের ভাগ্যই বদল করেননি, পালটে দিয়েছেন গ্রামের চিত্র।

দীর্ঘদিনের চেষ্টা আর স্বামী ও সন্তানের প্রেরণায় তিনি এখন সফল নারী । গুল রায়হান সুলপান্দী গ্রামের মিজানুর রহমানের স্ত্রী। তার স্বামী একজন সরকারি চাকরিজীবী। গুল রায়হান পরিবার পরিকল্পনা অফিসের একজন মাঠকর্মী। ছোটোবেলা থেকেই ফল ও ফুলের গাছ রোপণ করা ছিল তার একটি শখ। এ শখকে তিনি ধরে রেখেছেন বিয়ের পরও। তাই তিনি স্বামীর বাড়ির আঙিনাসহ বিভিন্ন স্থানে নানা প্রকার ফলের গাছ রোপণ করেন। ১৯৯০ সালের দিকে তিনি তাদের বাড়ির জমিতে ফলের চারার সঙ্গে সঙ্গে ফুলের চারাও রোপণ করতে থাকেন। এভাবেই একটি ছোটোখাটো নার্সারি করার ইচ্ছা তার মনে দানা বেঁধে ওঠে। সেই থেকে শুরু। ক্রমেই তার নার্সারির পরিধি বাড়তে থাকে। একসময় তার নার্সারিতে জন্মানো ফল ও ফুলের চারা তিনি বাজারজাত করতে থাকেন। উপজেলার বাজারগুলোতে গুল রায়হানের নার্সারির চারার অনেক কদর।

চাকরির পাশাপাশি তিনি তার শ্বশুরবাড়িতে বিভিন্ন ফলের গাছ, পুকুরে মাছচাষসহ নানা কাজ করতে থাকেন।

গুল রায়হান জানান, তার রয়েছে পুকুরে মাছ, জমিতে ধান, বাগানে সবজি ও বাড়িতে দুধেল গাভি। কখনো তার কোনো কিছু কিনে খেতে হয়নি। তিনি পারিবারিক পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে বাড়তি ফসল, সবজি ও ফলমূল বাজারে বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। একসময় স্বামী-সন্তান বাধা দিলেও এখন তাকে অনুপ্রেরণা জোগান।

গুল রায়হান জানান, তার এক ছেলে অ্যাডভোকেট। সকলে তাকে এ ব্যাপারে উত্সাহিত করেন। দুজন শ্রমিক প্রতিদিন তার নার্সারি পরিচর্যার কাজ করে যাচ্ছে। নার্সারিতে উত্পাদিত চারা বিক্রি করে তার প্রতি মাসে ৩০-৩৫ হাজার টাকা আয় হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নারায়ণগঞ্জের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আব্দুল কাদির জানান, এ বছর উপজেলা চত্বরে আয়োজিত ফলদ বৃক্ষমেলায় ১৪টি স্টল বসছে। এর মধ্যে একমাত্র নারী গুল রায়হান । তিনি পুরুষের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ফুল ও ফলের গাছসহ নানা রকমের চারা বিক্রি করছেন, যা সমাজের অন্য নারীদের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।