বিএনপি সরে গেলেও নির্বাচন যথাসময়ে হবে :কাদের

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:৪৯

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বিএনপি সরে গেলেও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন যথাসময়েই অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন নিয়ে কোনো সন্দেহ সংশয় নেই। কোনো মিডিয়াতে এ ধরনের সংশয় নিয়ে খবর প্রকাশ হয়নি। নির্বাচন কারও জন্য আটকে থাকবে না।’ গতকাল বুধবার দুপুরে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।  ‘সরকারের নীলনকশা বাস্তবায়ন করছে নির্বাচন কমিশন’ মর্মে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তারা নির্বাচন বানচালের নীল নকশা লন্ডন থেকে করছে। আমাদের কোনও নীল নকশা নেই। আমাদের নীল নকশা অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের।’ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন জায়গায় বিদ্রোহী প্রার্থীর সম্ভাবনা রয়েছে, তাদের বিষয়ে কবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে একজন সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘৯ ডিসেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। এরপর সঙ্গে সঙ্গে বহিষ্কার করা হবে।’ ‘সরকার মানুষকে খেয়ে ফেলছে এবং ১০ তারিখের পর জনগণ রাস্তায় নামবে’ মর্মে নাগরিক ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার এমন বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সরকার কি ভূমিকা পালন করছে সেটা জনগণ ৩০ তারিখের ভোটে বুঝিয়ে দিবে।’ তিনি বলেন, ‘মান্না সাহেব অপেক্ষা করুন। ৩০ তারিখে বাংলার মানুষের রায়ে ভোট বিপ্লব হবে, তখন বুঝতে পারবেন আপনার ধারণা কত অবাস্তব।’

আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘১০ বছরে নামলো না, ১০ তারিখের পর আন্দোলন করবে। হেরে গিয়ে আন্দোলন করবে, এই তো? দেখি না আন্দোলন করতে কে আসে। জনগণ সঙ্গে না থাকলে তো আন্দোলন হয় না। মানুষের সাড়া নেই বলে, এই ১০ বছরে তারা কোনও আন্দোলন করতে পারেনি।’ নির্বাচনের সুস্থ পরিবেশ নেই বিএনপির এমন অভিযোগের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘অসুস্থ পরিবেশ কোথায় সৃষ্টি হয়েছে এই নগরীতে? এই মুহূর্তে এই ঢাকা শহরে কোথায় পরিবেশ অসুস্থ? যেটুকু অসুস্থ হয়েছে সেটা পল্টনে তারা করেছে। আমি নিশ্চিত করে বলছি, আমাদের তরফ থেকে নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত হবে না।

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি সাংবাদিক ছিলাম, ভালো সাংবাদিকতার সঙ্গে আমি ছিলাম। মন্ত্রিত্ব তো আর সারা জীবন থাকবে না, মন্ত্রিত্ব সব সময় থাকবে এমন তো কোনো কথা না, মন্ত্রিত্ব সব সময় থাকবে এই অহঙ্কারও আমি করি না। অনেক বাঘা বাঘা মন্ত্রিরা এখন আর নেই। মন্ত্রিত্ব চলে গেলে আবার সাংবাদিক হয়ে যাব।’ এ সময় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হকসহ অন্য কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিক হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী উপমহাদেশের রাজনীতি ও গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তার বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকালে তিনি শ্রমজীবীসহ অবহেলিত মুসলিম সম্প্রদায়ের স্বার্থরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।’