আমাদের শিশু-কিশোরদের মস্তিষ্ক বিক্রির জন্য নয়: ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২২:০০

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, আগামী সেপ্টেম্বর থেকে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই যেন ১৫ বছরের নিচের শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করা যায়, সে লক্ষ্যে সরকার আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিতে চায়।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ম্যাক্রোঁ বলেন, আমাদের শিশু ও কিশোরদের মস্তিষ্ক বিক্রির জন্য নয়। তাদের আবেগও বিক্রির বা নিয়ন্ত্রণের বস্তু হতে পারে না- তা সে আমেরিকান প্ল্যাটফর্ম হোক কিংবা চীনা অ্যালগরিদম।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আমরা ১৫ বছরের নিচে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করছি এবং উচ্চ বিদ্যালয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আনছি। এটি একটি পরিষ্কার নিয়ম- কিশোরদের জন্য, পরিবারগুলোর জন্য এবং শিক্ষকদের জন্যও।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শিশুদের সুরক্ষায় পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে এ ধরনের উদ্যোগ বাড়ছে। গত ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া একটি যুগান্তকারী আইন পাস করে, যেখানে ১৬ বছরের নিচে শিশুদের ইনস্টাগ্রাম, টিকটক ও ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট খোলায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

ফ্রান্সের এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ম্যাক্রোঁর রেনেসাঁ পার্টির আইনপ্রণেতা লর মিলার। তিনি বলেন, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কার্যকর কোনো বয়স যাচাই ব্যবস্থা নেই। যে কেউ ইচ্ছামতো জন্মতারিখ দিয়ে প্ল্যাটফর্মে ঢুকে পড়তে পারে। তাই ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট কঠোরভাবে প্রয়োগ করে প্রকৃত বয়স যাচাই নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

মিলার স্বীকার করেন, নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর কিছু পথ সবসময় থাকবে। তবে তার মতে, অনলাইনে শিশুদের সুরক্ষায় অন্তত একটি শক্ত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

অস্ট্রেলিয়ায় নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের পর ১৬ বছরের নিচে পরিচালিত প্রায় ৪৭ লাখ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট বন্ধ বা অপসারণ করা হয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ বলেন, শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি হচ্ছে বলেই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাস্তব জগতে শিশুদের অতিরিক্ত সুরক্ষা দেওয়া হলেও অনলাইন জগতে তাদের যথেষ্ট সুরক্ষা দেওয়া হয়নি। এ কারণেই স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বয়সভিত্তিক নিষেধাজ্ঞার মতো কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে।

 

ইত্তেফাক/কেএইচ