জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রায় ঘোষণা করা হচ্ছে। রায় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর তিন সদস্যের বেঞ্চ রায় প্রদান করছেন, যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার। অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
মামলায় আসামি রয়েছেন- ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ মোট আটজন। এর মধ্যে চারজন পলাতক। মামলাটি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর একই ঘটনায় আরেকটি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছিল, যেখানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
চানখাঁরপুল এলাকায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পুলিশি গুলিতে শহীদ হন শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ মাহদি হাসান জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক এবং মানিক মিয়া শাহরিক। মামলার চারজন পলাতক হলেন ডিএমপি’র সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ্ আলম মো. আখতারুল ইসলাম ও রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল। অপর চারজন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
চানখাঁরপুলের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ২০২৫ সালের ২১ এপ্রিল দাখিল করা হয়। এরপর ২৫ মে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল এবং ১৪ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ১১ আগস্ট ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন এবং প্রথম সাক্ষী হিসেবে শাহারিয়ার খান আনাসের বাবা জবানবন্দি দেন। মোট ২৬ জন সাক্ষীর মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া শেষ হয়, যা ডিসেম্বরের ২৪ তারিখে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়। রায় ঘোষণার জন্য আগে নির্ধারিত ২০ জানুয়ারির তারিখ পরবর্তীতে ২৬ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়।
