দিনাজপুরে ১৮ ডিসেম্বর গোর এ শহীদ ময়দানে ওড়ে বিজয়ের পতাকা

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:৫০

পাক হানাদার বাহিনী পিছু হটলে দিনাজপুর মুক্ত হয় ১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর। মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্র বাহিনী দিনাজপুরের নিয়ন্ত্রণ হাতে নেয়। ১৮ ডিসেম্বর জেলায় গোর এ শহীদ ময়দানে তত্কালীন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য (এমপিএ) ও উত্তরাঞ্চলীয় জোনের চেয়ারম্যান এম. আব্দুর রহিম অ্যাডভোকেট স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম মানচিত্র খচিত পতাকা উত্তোলন করেন।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয় অর্জিত হয়। এর আগে ১৫ ডিসেম্বর মুক্ত হয় দিনাজপুর জেলা শহর। জেলা শহর মুক্ত হলেও জেলার অন্য অনেক এলাকায় পাক হানাদার বাহিনী থাকার কারণে জেলা শহরে আসাও ছিল যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ। তবে ১৬ ডিসেম্বর পাক বাহিনী আত্মসমর্পণ করার পর দিনাজপুর শহরে মানুষের ঢল নামে। ১৯৭১ সালের ১৮ ডিসেম্বর মুক্তস্বাধীন দিনাজপুর জেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। এ সময় ভারতীয় মিত্র বাহিনীর যৌথ কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার ফরিদ ভার্টি ও কর্নেল শমসের সিংয়ের নেতৃত্বে একটি চৌকস দল মুক্তিযোদ্ধা এবং ভারতীয় সৈন্যরা এম. আব্দুর রহিমকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন। ঐতিহাসিক এ দিনটি স্মরণে দিনাজপুরে ওই সময় বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধে দিনাজপুরবাসীর দুঃসাহসিক ভূমিকা জেলার ইতিহাসে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনা। বস্তুতঃপক্ষে কুঠিবাড়ী ব্যারাকের বাঙালি জওয়ানদের আক্রমণাত্মক শক্তি শৌর্যের ভূমিকা দিয়েই দিনাজপুরে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়। দিনাজপুরের বুকে এক টানা দুর্জয় গতিতে সে যুদ্ধ চলে চূড়ান্ত বিজয়ের পূর্ব দিন পর্যন্ত; কিন্তু দেশের অন্য অনেক এলাকার তুলনায় দিনাজপুরে মুক্তিযুদ্ধের অবস্থা ছিল নানা কারণে স্বতন্ত্র-ঘটনায় ও সংঘর্ষের ঘাত প্রতিঘাতে খুবই সংকটময়। যথেচ্ছ কার্যকলাপ, অনাচার, অত্যাচার ও গুপ্তহত্যার নায়ক বিহারীরা তখন যুদ্ধকালীন ভেতরে অবস্থানকারী বাঙালি নর-নারী, এমন কি শিশু সমাজের জন্যও ছিল যেন বিপজ্জনক সাক্ষাত্যমরূপী হুমকি।