মানিকগঞ্জ-২

জামায়াতের মনোনয়ন প্রত্যাহারে পাল্টে গেছে ভোটের সমীকরণ

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩:৩৪

মানিকগঞ্জ-২ (সিংগাইর-হরিরামপুর ও সদরের দুই ইউনিয়ন) আসনে জামায়াত ইসলামের প্রার্থী মোঃ জাহিদুর রহমান মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। অপরদিকে বিএনপি বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী, থানা বিএনপির সভাপতি আবিদুর রহমান খান রোমানও মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। ফলে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রার্থী প্রকৌশলী মঈনুল ইসলাম খান শান্ত ভোটের সমীকরণে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বলে মনে করছেন নেতা-কর্মীরা।

তবে প্রতীক বরাদ্দের আগের দিন উচ্চ আদালতের রায়ে জাতীয় পার্টি (জাপা) প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র বৈধ হওয়ায় কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। জামায়াতের মনোনয়ন পাওয়ার আগে এবং পরে মোঃ জাহিদুর রহমান প্রতিটি অঞ্চলে দলীয় কর্মীদের নিয়ে ব্যাপক কাজ করেছেন। ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি জাহিদুর রহমান মাঠে গণসংযোগকালে ব্যাপক সাড়া পেয়েছিলেন। দলের প্রতিটি পথসভায় ছিল তার পদচারনা।

নির্বাচনী জোটের আসন বন্টনের হিসাব অনুযায়ী জামায়াত এ আসনটি ছাড়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে। এখন এ আসনে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুহাদ্দিস মোঃ সালাউদ্দিন।

সালাউদ্দিন মানিকগঞ্জ ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার হেড মুহাদ্দিস। এলাকায় তেমন পরিচিত না হলেও তিনি দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শায়খুল হাদিস হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এদিকে জামায়াতের জাহিদুর রহমানের প্রার্থী না হওয়ায় অনেক নেতা-কর্মী ভেঙে পড়েছেন। দলটির নেতাকর্মীরা মনে করেন, বিপুল সংখ্যক ভোট পেলে এবার এ আসন জামায়াতের ঘরে তুলতে পারত। জাহিদুরের রয়েছে ব্যক্তি ইমেজ এবং উচ্চ শিক্ষার যোগ্যতা। তবে দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে আসনটি হাতছাড়া হয়েছে। এ নিয়ে নেতাকর্মীরা ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। জোটের মিছিলেও তাদের দেখা যায় না।

জামায়াতের প্রার্থী সরে দাঁড়ানোর পর জোটের প্রার্থীর পক্ষে মাঠে থাকবেন কিনা জানতে চাইলে দলটির নেতাকর্মীরা জানান, এ বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। জামায়াত ইসলামের প্রার্থী ও বিএনপি বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহারে ধানের শীষ মার্কা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

অপরদিকে বিএনপি প্রার্থী, থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মাহাবুবুর রহমান মিঠু ও পৌর বিএনপি সভাপতি এ্যাডভোকেট খোরসেদ আলম ভূইয়া জয়সহ দলের একটি অংশকে বাদ দিয়ে নির্বাচন প্রচারণা চালাচ্ছেন। দীর্ঘদিন পর ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলেও ডাক না পাওয়ায় তারা চুপচাপ রয়েছেন।

বিএনপি বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী খান রোমান দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। অন্যদিকে উন্নয়নের রূপকার, সাবেক সফল শিল্পমন্ত্রী ও ৪ বারের এমপি মরহুম শামসুল ইসলাম খান নয়া মিয়ার ছেলে হিসেবে পরিচিত মঈনুল ইসলাম খান শান্তের রয়েছে ব্যক্তিগত ইমেজ। বাবার মৃত্যুর পর তিনি অল্পদিনের জন্য সংসদ সদস্যও ছিলেন। তিনি দিন-রাত গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

এখানে জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী প্রকৌশলী এসএম আব্দুল মান্নান লাঙ্গল প্রতিক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন। ২০১৮ সালে তিনি মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে বিএনপি প্রার্থী আফরোজা খান রিতাকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং উন্নয়নমূলক কাজকর্ম করেন। এবারও তিনি সমর্থকদের নিয়ে গণসংযোগ চালাচ্ছেন।

অপরদিকে পীর সাহেব চরমোনাই মনোনীত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী মোহাম্মদ আলী হাত-পাখা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিনি আশাবাদী, ইসলামের জয় হবে।

ইত্তেফাক/এএইচপি