জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, সরকার ভেবেছিল এবারও ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো একটা যেনতেন নির্বাচন করে ফেলবে, আবারও পাঁচ বছর কাটিয়ে দেবে। সরকার ভেবেছিল আমরা অপ্রস্তুত, কেউ নির্বাচনে অংশ নেব না। কিন্তু যখন আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম নির্বাচনে যাব, তখন দেখলাম তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। আমরা অনুভব করছি সরকার একটা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে। স্বাধীন নিরপেক্ষ নির্বাচন হওয়ার জন্য ভোট পাহারা দিলে সরকারের অপচেষ্টা মোকাবিলা করে তা মানুষের প্রাপ্য অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন আদায় করা যাবে। এতে ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটবে। গতকাল বুধবার বিকালে রাজধানীর পুরানা পল্টনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নতুন অফিসের কার্যক্রম উদ্বোধনের সময় তিনি এ সব কথা বলেন।
ড. কামাল বলেন, কোথাও কোনো অনিয়ম দেখলে তা জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। বিশেষ করে পুলিশের ভূমিকা খেয়াল রাখা জরুরি। সাংবাদিকদেরও পাহারাদারের ভূমিকা পালন করতে হবে। সাংবাদিকরা সতর্ক থাকলে অনিয়ম অন্যায় অনেকাংশে কমে যাবে। তিনি বলেন, এ নির্বাচন সুষ্ঠু হলে দেশের জনগণ তাদের মালিকানা ফিরে পাবে। বর্তমান গণতন্ত্রহীন অবস্থার ঘাটতি পূরণের জন্য এ নির্বাচন। এ জন্য আমরা সবাই নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। ভোট দেওয়ার জন্য ভোরবেলায় কেন্দ্রে যেতে হবে, জায়গা ধরে রাখতে হবে। ভোট যেন এদিক-ওদিক না হয়, সেজন্য ভোট পাহারা দিতে হবে।
ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার প্রশ্নে ড. কামাল বলেন, বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের একটিই ইশতেহার হবে। ৮ ডিসেম্বরের মধ্যে এ ইশতেহার ঘোষণা করা হবে।
অনুষ্ঠানে কামাল হোসেনের পক্ষে একটি লিখিত বক্তব্য দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, সরকার দলীয় প্রার্থীরা নির্বাচনী মাঠে দাপটের সঙ্গে আছে। কিন্তু জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা মাঠে যেতে পারছেন না। ছোটখাটো অজুহাতে ঐক্যফ্রন্টের ১৪১টি আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। সরকারের প্রার্থীদের বড় বড় ঋণ খেলাপিদের মনোনয়নপত্র বৈধ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিরোধী দলের ওপর পুলিশি হয়রানি, মামলা, গ্রেফতার চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ভোট প্রয়োগের ক্ষেত্রে যে কোনো প্রকার বিচ্যুতির দায়-দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনকে বহন করতে হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আ স ম আব্দুর রব, সুব্রত চৌধুরী, মোস্তফা মোহসীন মন্টু, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, বরকতউল্লা বুলু, আবদুস সালাম, ড. রেজা কিবরিয়া, হাবিবুর রহমান তালুকদার প্রমুখ।
