অন্যের জামিননামা দেখিয়ে হত্যা মামলার আসামির পলায়ন: ৬ কারারক্ষী ও ডেপুটি জেলার বরখাস্ত

আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:১০

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগার থেকে এক আসামির জামিননামা ব্যবহার করে হত্যা মামলার আরেক আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ছয় কারারক্ষী ও একজন ডেপুটি জেলারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে হৃদয়সহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে কারা কর্তৃপক্ষ।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. ওবায়দুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পলাতক আসামি হৃদয় মিয়া (২৮) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার নিমবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আখাউড়া থানার একটি হত্যা মামলার আসামি বলে জানিয়েছেন কারা কর্তৃপক্ষ।

বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন—ডেপুটি জেলার মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম ও প্রধান কারারক্ষী মো. মোরশেদ আলম। 

কারা কর্তৃপক্ষ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ৫২মিনিটে নবীনগর থানার একটি মামলায় জামিনপ্রাপ্ত হাজতি দিদার হোসেনকে মুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছিল। সে সময় হৃদয় নিজেকে দিদার হোসেন পরিচয় দিয়ে কারাগারের প্রধান ফটকে উপস্থিত হন। হৃদয় কৌশলে দিদার হোসেনের কেস হিস্ট্রি টিকিট থেকে ছবি সরিয়ে দেন এবং নাম-ঠিকানা হুবহু মিলিয়ে কারারক্ষীদের বিভ্রান্ত করেন। সঙ্গে সঙ্গে কয়েকজন বন্দি তাকে দিদার হোসেন হিসেবে শনাক্ত করে সম্মতি জানালে, কারারক্ষীরা হৃদয়কে মুক্ত করে দেন। কিছুক্ষণ পর বন্দিদের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হলে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে প্রতারণার বিষয়টি প্রকাশ পায়। পরে কারা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানায় এবং সদর মডেল থানায় মামলা করা হয়।

জেল সুপার মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়ায় ছয়জন কারারক্ষী ও একজন ডেপুটি জেলারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে একজন ডেপুটি জেলারকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিদুল ইসলাম ডেইলি স্টারকে বলেন, হৃদয়কে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

 
ইত্তেফাক/এমএস