কোচিংয়ে আগ্রহ আছে সৌরভের

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০১৯, ২১:১৮

স্পোর্টস ডেস্ক

দল ব্যস্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ খেলতে। যদিও ভারতীয় ক্রিকেটে এখন আলোচনার মূল বিষয় হলো কোচ নির্বাচন। সাবেক ক্রিকেটাররাও এ বিষয়ে বেশ সরব। জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নাকি এ পদের জন্য বোর্ড অব কনট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়ার (বিসিসিআই) দপ্তরে জমা পড়েছে ২ হাজারের মতো আবেদন।

তবে, এবার আবেদন করেননি সৌরভ গাঙ্গুলি। খেলোয়াড়ি জীবন ছেড়ে ক্রিকেট প্রশাসনে থিতু হওয়া সাবেক এ অধিনায়ক জানালেন, এ মুহূর্তে ভারতের কোচ হওয়ার ইচ্ছা নেই তার। যদিও, এ ইচ্ছাটা তিনি তুলে রেখেছেন ভবিষ্যতের জন্য। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আমি আগ্রহী। তবে, এ মুহূর্তে নয়। আরো কিছু সময় যাক। তার পর না হয় এ যুদ্ধে নামা যাবে।

৪৭ বছর বয়সি সৌরভ এখন ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের (সিএবি) সভাপতি। এর বাদে তিনি ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) দল দিল্লি ক্যাপিটালসের পরামর্শক। এর বাদে টেলিভিশনে অনুষ্ঠান করেন, ধারাভাষ্য দেন। এসব নিয়ে ব্যস্ততার কারণেই সৌরভ এখন কোচিংয়ে আগ্রহী নন। তিনি বলেন, ‘এখন আমি অনেক কিছুর সঙ্গে জড়িত—আইপিএল, সিএবি, টেলিভিশন, ধারাভাষ্য। এগুলো আগে শেষ করি। এরপর কোচ হওয়ার পেছনে ছুটব। কোচ হওয়ার সুযোগ পাওয়ারও একটা ব্যাপার আছে। তবে, সত্যি বলছি, ভবিষ্যতে আমি কোচিংয়ে আসতে চাই।’

ভারতের নতুন কোচ কে হবেন, সেটা জানতে আরো মাসখানেক সময় লাগবে। আপাতত শাস্ত্রী, বোলিং কোচ ভারত অরুণ, ব্যাটিং কোচ সঞ্জয় ব্যাঙ্গার ও ফিল্ডিং কোচ এস শ্রীধরের মেয়াদ ৪৫ দিন বাড়ানো হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরকে সামনে রেখে। সিরিজ চলবে আগামী তিন সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ভারত নিজেদের মাটিতে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ শুরু করবে। এর আগেই কোচের নাম ঘোষণা করে দেবে বিসিসিআই।

কোচ শাস্ত্রী ও তার বর্তমান সহকর্মীরা সরাসরি সাক্ষাত্কার দেওয়ার সুযোগ পাবেন বিসিসিআইয়ের ক্রিকেট অ্যাডভাইসরি কমিটির (সিএসি) কাছে। তিন সদস্যের কমিটিতে আছেন বিশ্বকাপ জয়ী প্রথম ভারতীয় অধিনায়ক কপিল দেব, সাবেক ওপেনার ও কোচ অংশুমান গায়কোড় ও ভারতীয় নারী ক্রিকেট দলের প্রথম অধিনায়ক শান্তা রঙ্গস্বামী।

কোচের আবেদনের লম্বা তালিকা থেকে বাছাই করা কয়েকজনের সাক্ষাত্কার নেবে সিএসি। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে সাক্ষাত্কারগুলো অনুষ্ঠিত হবে। কদিন আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের উদ্দেশে দেশ ছাড়ার আগে গণমাধ্যমকে বিরাট কোহলি বলে গেছেন যে, রবি শাস্ত্রীর সঙ্গে দলের বোঝাপড়া ভালো। তাই তাকে রেখে দিলেই খুশি হবেন বিরাট। কপিল দেবও অধিনায়কের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

এর আগে এ কমিটির দায়িত্বে ছিলেন শচিন টেন্ডুলকার, সৌরভ গাঙ্গুলি ও ভিভিএস লক্ষ্মণ। তারাই ২০১৬ সালে অনিল কুম্বলে ও এক বছর বাদে শাস্ত্রীকে নিয়োগ দিয়েছিলেন। ২০১৭ সালে সাবেক কোচ অনিল কুম্বলের বিদায়ের পর জুলাইয়ে কোহলিদের পছন্দের ভিত্তিতেই প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন শাস্ত্রী।

শাস্ত্রী এর আগেও ২০১৪র আগস্ট থেকে ২০১৬র জুন পর্যন্ত দলের ক্রিকেট পরিচালক ছিলেন। তার অধীনে ভারত ওয়ানডেতে অনেক বড়ো কোনো সাফল্য না পেলেও ধারাবাহিক পারফরম করে গেছে। তবে, শাস্ত্রীর সবচেয়ে বড়ো অর্জন হলো প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ভারতকে টেস্ট সিরিজ জেতানো।

শাস্ত্রীকেই আবারও রেখে দেওয়া উচিত কি না, এ প্রশ্নে সৌরভ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমার কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবে না। আমি এ প্রক্রিয়া থেকে অনেক দূরে আছি।’