আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সারা দেশে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। পাবনা-২ আসনে জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থীরা থাকলেও ভোটাররা বলছেন, লড়াই হবে মূলত বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে। আলোচনার শীর্ষে আছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী, দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক দুই বারের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সুজানগর উপজেলা জামায়াতের আমির সহকারী অধ্যাপক কে এম হেসাব উদ্দিন।
জানা যায়, আসন পুনর্বিন্যাসের ফলে পূর্বের ৬৯, পাবনা-২ আসনের সঙ্গে বেড়া উপজেলার একটি পৌরসভা ও চারটি ইউনিয়ন যুক্ত হয়ে নতুনভাবে গঠিত হয়েছে ৬৯, পাবনা-২ সংসদীয় আসন (সুজানগর-বেড়া)। পূর্বে পাবনা-২ আসনটি গঠিত ছিল সুজানগর উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়ন এবং বেড়া উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে। তবে সর্বশেষ পুনর্বিন্যাসে এখন পুরো সুজানগর উপজেলা ও বেড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত হয়েছে এই সংসদীয় আসন। এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জনসংযোগ, সভা-সমাবেশ ও মিছিল চালিয়ে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। এতে করে নির্বাচনি মাঠে উত্তাপ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা দিন দিন বাড়ছে।
বিগত নির্বাচনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই আসন থেকে ছয় বার আওয়ামী লীগ, চার বার বিএনপি এবং এক বার জাতীয় পার্টির প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই আসন থেকে জয়ী কোনো সংসদ সদস্যকে কখনো বিরোধী দলের আসনে বসতে হয়নি। ফলে অনেকের কাছেই পাবনা-২ আসনটি ‘ক্ষমতার চাবিকাঠি' হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব এ এলাকার ভোটারদের কাছে পরিচিত ও পরীক্ষিত মুখ। বেড়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম বর্তমানে তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে থাকায় তিনি সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছেন বলে মনে করছেন দলের নেতাকর্মীরা।
বেড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রইচ উদ্দিন বলেন, এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব একজন ক্লিন ইমেজের রাজনীতিবিদ। দলের সুদিন-দুর্দিনে তিনি সব সময় মানুষের পাশে থেকেছেন। বেড়া-সুজানগরের মানুষ তাকে যোগ্য নেতা হিসেবে আবারও ধানের শীষে ভোট দিয়ে সংসদে পাঠাবেন।
অন্যদিকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া সহকারী অধ্যাপক কে এম হেসাব উদ্দিনকে ঘিরে জামায়াত ও শিবির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ করা যাচ্ছে। তপশিল ঘোষণার পর থেকেই তারা উঠান বৈঠক, দলবদ্ধভাবে ভোট প্রার্থনা এবং গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এছাড়া জাতীয় পার্টির প্রার্থী রবিউল হাসান রুবেল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মওলানা আফজাল হোসেন এবং গণঅধিকার পরিষদের অ্যাডভোকেট গোলাম সরওয়ার খান জুয়েল নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই পাবনা-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও উত্তাপ বাড়ছে। শেষ পর্যন্ত ভোটের রায় কার পক্ষে যাবে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছেন এ এলাকার সাধারণ ভোটাররা।
বেড়া উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির ডা. আব্দুল বাসেত খান বলেন, 'বর্তমান পরিস্থিতি জামায়াত ইসলামের পক্ষে বলে মনে করছি। সংগঠনের পক্ষ থেকে ব্যাপকভাবে প্রচার-প্রচারণা করা হচ্ছে। এতে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ততাও লক্ষণীয়। বেড়া ও সুজানগরের মানুষ সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব চায়। আমরা একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রত্যাশা করছি। ভোটাররা বিবেচনা করেই অধ্যাপক হেসাব উদ্দিনকে ভোট দিয়ে সংসদে পাঠাবেন এটাই আমাদের আশা।’
