সাদা-কালো ছবিতে বর্ণিল বঙ্গবন্ধু

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০১৯, ২১:২১

জাতীয় জাদুঘরে শুরু মাসব্যাপী বিশেষ প্রদর্শনী

ইত্তেফাক রিপোর্ট

বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি নিদর্শন, আলোকচিত্র, পেইন্টিং এবং বঙ্গবন্ধুর ওপর প্রকাশিত গ্রন্থের ওপর বিশেষ প্রদর্শনী গতকাল শনিবার থেকে শুরু হয়েছে জাতীয় জাদুঘরে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে জাতীয় জাদুঘরের আয়োজনে শুরু হয়েছে এই বিশেষ প্রদর্শনী। মাত্র সাড়ে তিন বছরের শাসনামলে অনেক যুগান্তকারী অর্জন এনে দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। আর সেই কর্মযজ্ঞে কিছু খণ্ড চিত্র উঠে এসেছে প্রদর্শনীতে। ১২ জানুয়ারি, ১৯৭২ বঙ্গবন্ধু শপথ নেন। শুরু হয় বঙ্গবন্ধুর শাসনামল। দেশ পুনর্গঠনে সংবিধান প্রণয়ন, ১ কোটি শরণার্থীকে পুনর্বাসন, যোগাযোগব্যবস্থা ও সকল অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধন, শিক্ষাব্যবস্থার সম্প্রসারণ, মুক্তিযোদ্ধা ও নারীদের পুনর্বাসন ও কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন, কৃষি-শিল্পের সম্প্রসারণ, ব্যাংক-বিমা জাতীয়করণ, শ্রমিক কল্যাণ, ১২১টি দেশের স্বীকৃতি অর্জন করে। এসব কাজের ছবিতে উঠে এসেছে তাজউদ্দীন আহমদের সঙ্গে চলছে গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয়ের আলাপচারিতা। ১৯৫৩ সালে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রার্থী মনোনয়নের বৈঠকে তারুণ্যে উদ্দীপ্ত মুজিবের দেখা মেলে। অধিকাংশ সাদা-কালো ছবির মাঝে একটি রঙিন ছবিতে বঙ্গবন্ধুর চমত্কার অভিব্যক্তির সঙ্গে ফ্রেমবন্দি হয়েছেন ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। ঈদের নামাজে শামিল হওয়া পিতার সঙ্গে ছোট্ট শেখ রাসেলের ছবিটি আলাদাভাবে দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে। রাজশাহীর একটি নদীতে শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর নৌকা ভ্রমণের ছবিটি মেলে ধরেছে উভয় নেতার সহজ সম্পর্কের বয়ান। স্মৃতি নিদর্শনের সঙ্গে শতাধিক আলোকচিত্র ও চিত্রকর্মের সঙ্গে গ্রন্থসম্ভারে সাজানো বিশেষ প্রদর্শনীটির পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে শেখ মুজিবের স্পর্শ।

এর পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয়েছে সেমিনার। বিষয় ছিল ‘দেশ গঠনে বঙ্গবন্ধু’। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিসচিব ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সভাপতি শিল্পী হাশেম খান। সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক মো. রিয়াজ আহম্মদ।

কে এম খালিদ বলেন, বাঙালি জাতি স্বাধীনতা অর্জন করে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট দেশ হারায় বিশ্বের এক মহানায়ককে। বাঙালি এই বীরের অসামান্য অর্জন কখনো ম্লান হওয়ার নয়। 

সৌমিত্র শেখর বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে একটি মর্যাদাসম্পন্ন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ধারক, তার বড়ো মেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলোকবর্তিকা হয়ে আমাদের পথ দেখাচ্ছেন।

শিল্পী হাশেম খান বলেন, বঙ্গবন্ধু আজ নেই, কিন্তু বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বাঙালিরা ধারণ করে এই দেশকে উন্নত দেশ হিসেবে পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে উঠে দাঁড়াবার জন্য কাজ করে চলছে। প্রদর্শনী চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত।