ডিএসসিসির শহীদ বুদ্ধিজীবী খালেক সরদার পার্ক
রফিকুল ইসলাম রবি
উদ্বোধনের দুই মাসের মধ্যেই পুরান ঢাকার বংশালের সিক্কাটুলীর শহীদ বুদ্ধিজীবী খালেক সরদার পার্কের অবকাঠামো ভেঙে পড়েছে। ঘনবসতিপূর্ণ ওই এলাকার মানুষের স্বস্তিতে নিঃশ্বাস ফেলার জায়গা এ পার্কটি উদ্বোধনের সময় মনে আশার আলো জাগালেও এখন হতাশ করছে এলাকাবাসীকে। দুই মাস যেতে না যেতেই নষ্ট হয়ে গেছে পার্কের সৌন্দর্য। ফুলগাছসহ সৌন্দর্যবর্ধনকারী গাছের ডালপালা, লতাপাতা, নতুন লাগানো ঘাস উঠে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। ভেঙে গেছে শিশুদের বিনোদনের সরঞ্জাম। পার্কের ভেতরে যত্রতত্র ছড়িয়েছিটিয়ে আছে ময়লা-আবর্জনা।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ‘জল সবুজের ঢাকা’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ২০১৭ সালের শুরুর দিকে ২৫ কাঠা জায়গার ওপর নির্মিত শহীদ বুদ্ধিজীবী খালেক সরদার পার্কের সংস্কারকাজ শুরু করে। প্রায় তিন কোটি টাকা খরচে পার্কটিতে নতুন ঘাস, ওয়াকওয়ে, বসার জন্য বেঞ্চ, সবুজ চত্বর, বাচ্চাদের জন্য পৃথক জায়গায় বিনোদনের সরঞ্জাম স্থাপন, অত্যাধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর উন্নয়নকাজ করা হয়।
এক সময় বেদখল হওয়া মাঠ-পার্ক উদ্ধার করে নগরবাসীকে স্বস্তির পরিবেশ ফিরিয়ে দিতে এই প্রকল্প গ্রহণ করে ডিএসসিসি। সংস্থাটির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘জল সবুজের ঢাকা’ প্রকল্পের আওতায় ডিএসসিসির ১৯টি পার্ক ও ১২টি মাঠ সংস্কার বা আধুনিকায়নের কাজ শুরু হয়েছে। এগুলোর কাজ শেষ হলে আপনারাই দক্ষিণ সিটির পরিবর্তন দেখতে পাবেন। পার্কগুলো নিয়ে আমরা খুব আশাবাদী।
সিক্কাটুলীর শহীদ বুদ্ধিজীবী খালেক সরদার পার্কটি নাজিরাবাজার থেকে ১০০ মিটার পশ্চিমে। গত ১৬ মে রাতে নবনির্মিত এ পার্কটি উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, উদ্বোধনের এক মাসের মধ্যেই পার্কের বেহাল দশা শুরু হয়। পার্কটি উদ্বোধনের পর এর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য লোকও নিয়োগ দেয়নি সিটি করপোরেশন। এছাড়া উন্নয়ন কাজের নিম্নমানের কারণে উদ্বোধনের দুই মাসের মধ্যেই ভেঙে পড়েছে এর সৌন্দর্য। ফলে আগের চেহারায় ফিরতে শুরু করেছে পার্কটি। এ নিয়ে তারা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
সিক্কাটুলীর বাসিন্দা সেকান্দার আলী বলেন, আগে পার্কটির পরিবেশ ভালো ছিল না। সংস্কারের পর ভাবছিলাম, পার্কটি আবার প্রাণ পেয়েছে। কিন্তু উদ্বোধনের এক মাস যেতে না যেতেই সৌন্দর্য নষ্ট হতে শুরু করে। এখন পার্কের বেহাল দশা। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার না করলে এক মাসের মাথায় পার্কটির সৌন্দর্য নষ্ট হতে পারে না।
সরজমিনে দেখা যায়, নান্দনিক নকশায় তৈরি পার্কটির চারপাশ উন্মুক্ত। ফলে সব দিক থেকে সহজে প্রবেশ করা যায়। তবে ভেতরে প্রবেশ করেই আঁতকে উঠছেন অনেকে। এক মাস আগে যে পার্কটি ছিল দৃষ্টিনন্দন গাছগাছালি, আলোকসজ্জায় ভরা; এখন সেখানে কংক্রিটের স্থাপনা। যততত্র ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়েছিটিয়ে পড়ে আছে। নষ্ট হয়ে গেছে সবুজ চত্বর, নতুন লাগানো ঘাসগুলো উঠে গেছে, শিশুদের বিনোদনের জন্য তৈরি সরঞ্জাম ভেঙে পড়েছে। এতে চড়ে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
পার্কে ঘুরতে আসা নাজিরাবাজারের চায়ের দোকানদার খলিল রহমান বলেন, উদ্বোধনের কিছু দিনের মধ্যেই শিশুদের একটি দোলনা ছিঁড়ে পড়ে। দোলনায় চড়ে যেকোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। সরকারি টাকা লুটপাট করা না হলে এভাবে পার্কের মধ্যে নিম্নমানের সরঞ্জাম বসাতে পারে? উদ্বোধনের সময় দেখলাম, কত সুন্দর দৃষ্টিনন্দন। এখন ঘাস, ডালপালা, আলোজসজ্জাসহ পার্কের পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
নির্মাণকাজ করা নওয়াব এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকার বিপ্লব আমিন ইত্তেফাককে বলেন, পার্কের কাজ আমি বুঝিয়ে দিয়েছি। এখন নষ্ট হলে আমার কি করার আছে। ডিএসসিসির প্রকৌশল বিভাগ বলছে, তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
