ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলছে। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় এ আসনে মূল লড়াই ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
এ আসনে এবার চারটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ধানের শীষ প্রতীকে লড়ছেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. মো. মনিরুজ্জামান। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতে ইসলামীর জেলা কর্মপরিষদ সদস্য ও দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। জাতীয় পার্টির প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুর রশিদ (লাঙল) এবং ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের এস এম মোস্তফা আল মামুন (হাতপাখা) প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।
অতীতে এ আসন থেকে বিএনপি একবার, জাতীয় পার্টি তিনবার, জামায়াতে ইসলামী দুবার এবং আওয়ামী লীগ চারবার বিজয়ী হয়েছে। ২০০৮ সাল থেকে আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে ছিল।
স্থানীয় সূত্র বলছে, সাংগঠনিকভাবে শ্যামনগরে জামায়াতের অবস্থান শক্তিশালী। তবে আসনটি নিজেদের অনুকূলে আনতে ব্যাপকভাবে মাঠে নেমেছে বিএনপিও। বিশেষ করে নারী ও হিন্দু ভোটারদের সমর্থন জয়–পরাজয়ের হিসাব বদলে দিতে পারে বলে দুই দলের নেতাকর্মীরাই মনে করছেন।
এ আসনে মোট ভোটার দুই লাখ ৯৮ হাজার ৫০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৫০ হাজার ২৬ জন, নারী ভোটার এক লাখ ৪৮ হাজার ২০ জন এবং চারজন হিজড়া ভোটার রয়েছেন। সনাতন ধর্মাবলম্বী ভোটার রয়েছেন ৫৮ হাজার ৫২৩ জন।
ধানের শীষের প্রার্থী ড. মনিরুজ্জামান দীর্ঘদিন লন্ডনে অবস্থান করায় শুরুতে জনসংযোগে কিছুটা পিছিয়ে ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানান। তবে বর্তমানে তিনি উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছেন। শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মাস্টার আব্দুল আহেদ দাবি করেন, দলের নেতাকর্মীরা মাঠে সক্রিয় থাকায় ধানের শীষের জয়ের ব্যাপারে তারা আশাবাদী।
অন্যদিকে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আব্দুর রহমান বলেন, গাজী নজরুল ইসলাম দুবারের সংসদ সদস্য হিসেবে এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন এবং ভোটারদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের বিজয়ে তারা আত্মবিশ্বাসী।
ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে জামায়াত কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলে ধারণা করা হলেও আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোট যদি বিএনপির দিকে যায়, তাহলে পরিস্থিতি পাল্টে যেতে পারে।
