শান্তির রসায়ন

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০১৯, ২১:৪৯

সবাই তাদের জীবনে শান্তি চান। কিন্তু অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় তাদের বিক্ষিপ্ত মন। ধরুন আপনার কোনোভাবে শান্তি নষ্ট হলো, তো স্বাভাবিকভাবেই, প্রথমে আপনার স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ায় জড়াবেন। তারপর, পরিস্থিতি আরো একটু খারাপ হবে, তখন আপনি রাগ প্রকাশ করবেন আপনার প্রতিবেশীর ওপর। ব্যাপারটা আরো একটু তীব্র হবে যখন, আপনি অফিসে গিয়ে আপনার বসের ওপর চেঁচাবেন।

যেদিন বসের উপর চেঁচাবেন, সেদিন সবাই বুঝে যাবে আপনার চিকিত্সার প্রয়োজন। স্বামী-স্ত্রী, প্রতিবেশী অবধি ঠিক আছে, কারণ সমাজের মাপকাঠিতে এটা এখন স্বাভাবিক। সবাই এটা করে থাকেন। কিন্তু বসের ওপর চেঁচানো মানে এবার আপনি বাড়াবাড়ি করে ফেলেছেন।

সে কারণেই এখন আপনার ডাক্তারের সাহায্য প্রয়োজন। আপনি ডাক্তারের কাছে গেলেন, তিনি আপনাকে ওষুধ দিলেন। সেই ওষুধটি খাওয়ার পর, অন্তত কিছু সময়ের জন্য, আপনি শান্তি ও স্বস্তি বোধ করলেন। শরীরে রাসায়নিক প্রবেশ করার ফলে দেহ ও মনের অস্থিরতা একটু কমে এবং শান্তি ফিরে আসে কিছুটা। তার মানে, শান্তি হলো শরীরের মধ্যে একধরনের রাসায়নিক প্রক্রিয়া। ঠিক একইভাবে, একেকটি আবেগ হলো আমাদের শরীরের মধ্যে একেকটি রাসায়নিক প্রক্রিয়া। একটি নির্দিষ্ট আবেগের জন্য শরীরের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট ধরনের রাসায়নিক প্রক্রিয়া তৈরি হয়। আমাদের অবস্থা যদি শান্তিপূর্ণ হয়, তাহলে শরীরের ভেতরের রসায়নও শান্তিপূর্ণ হবে। অথবা আমরা যদি শরীরের ভেতরের রসায়নকে শান্তিপূর্ণ তৈরি করতে পারি, তাহলে স্বভাবতই আমরাও শান্তিপূর্ণ হবো। যোগ সাধনায় আমরা উভয় পদ্ধতিই অবলম্বন করে থাকি।

সঠিক অভ্যাস করলে আমরা আমাদের অভ্যন্তরীণ রাসায়নিক অবস্থার পরিবর্তন আনতে পারি। এটিকে একটি নির্দিষ্ট অবস্থায় নিয়ে আসা সম্ভব, যেন বাইরের পরিস্থিতি যা-ই হোক না কেন, আমাদের ভেতরকার অবস্থা শান্তিপূর্ণ থাকে। বর্তমানে, বাহ্যিক পরিস্থিতি ঠিক করে দেয় যে, আপনি শান্তিপূর্ণ থাকবেন কি না। বাইরের পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ থাকলেই আপনার শান্তি বজায় থাকে, কিন্তু তা না হলেই আপনার শান্তি ভঙ্গ হয়। কেবল যখন বাইরের পরিস্থিতি আপনার ওপর কোনো প্রভাব ফেলতে পারে না, তখনই আপনার অভ্যন্তরীণ অবস্থা বাহ্যিক পরিস্থিতি নির্বিশেষে একই রকম হয়ে থাকে। আমরা তখন সেটাকে যোগ বলি। অন্যভাবে বলতে গেলে, যোগ হলো আপনার ভেতরকার সঠিক রসায়ন তৈরির বিজ্ঞান।

আপনার ভেতরের রসায়ন যদি সঠিক থাকে তাহলে আনন্দময় এবং শান্তিপূর্ণ হওয়াটাই স্বাভাবিক—এছাড়া অন্য কোনোভাবে শান্তিপূর্ণ থাকা সম্ভব নয়। আনন্দময় ও শান্তিপূর্ণ হওয়া জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়, জীবনের প্রাথমিক প্রয়োজনীয়তা। আপনি যদি অন্তত শান্তিপূর্ণ না থাকেন, যদি নিজের মানসিক ছাইপাঁশের মধ্যেই আটকে থাকেন, তার মানে আপনি এখনো বাঁচতেই শুরু করেননি। আনন্দময় ও শান্তিপূর্ণ হওয়া জীবনের সবচেয়ে মৌলিক প্রয়োজনীয়তা। সামান্য ভোজন করতে গেলেও আপনাকে শান্তিপূর্ণ হতে হবে, না হলে আপনি সুখের সঙ্গে খেতে পারবেন না। যদি আপনার মন বিক্ষিপ্ত থাকে তাহলে কি আপনি খাবার খেয়ে উপভোগ করবেন? পারবেন না। কিন্তু আজ লোকে প্রচার করে বেড়াচ্ছে যে, জীবনের চরম লক্ষ্য হলো মনের শান্তি লাভ করা।

শান্তিপূর্ণ হওয়া জীবনের মৌলিক প্রয়োজনীয়তা। জীবনের ‘অ-আ-ক-খ’। এটি জীবনের শেষের চন্দ্রবিন্দু নয়।

n সৌজন্যে : ঈশা ফাউন্ডেশন