মো. আব্দুর রহমান
প্রতিবছর ঈদের ছুটিতে ঢাকা শহরের অধিকাংশ মানুষই নিজ গ্রামের বাড়িতে ঈদ উদ্যাপনের জন্য হয় দিশেহারা। ঠিক সেই সময় পরিবহন মালিক ও অসাধু দালালচক্ররা মেতে ওঠে টাকা উপার্জনের নেশায়। আর দালালদের এই নেশার ছোবলে পড়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে টিকিট ক্রয় করতে হয় অনেক শ্রমজীবী গরিব মানুষকে। অনেকে শুধুমাত্র অতিরিক্ত ভাড়ার কারণেই বাবার পৈতৃক ভিটাতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে উদ্যাপন করতে পারে না আনন্দের এই ঈদকে। দেশে উন্নয়নের ছোঁয়ায় বেড়েছে প্রচুর গাড়ি। অথচ ঈদের সময় গাড়িতে আসন পাওয়া যায় না। টাকা বেশি গুনলেই পাওয়া যায় আসন। সাধারণত, যেসব পরিবহনে ৪০০ টাকা ভাড়ায় সিট পাওয়া যায়, ঈদের পূর্বে দেখা যায় ৯০০ টাকা ভাড়া দিয়েও সিট মেলে না অনেকের। এর আসল কারণ হলো—একদল দালালচক্র পরিবহন কাউন্টার থেকে পূর্বে টিকিট কিনে রাখে এবং ঈদের আগমুহূর্তে দ্বিগুণ টাকার বিনিময়ে টিকিট বিক্রয়ের মাধ্যমে ব্যবসা চালিয়ে যায়। পরিবহন কাউন্টারগুলোও দ্বিগুণ ভাড়া দাবি করে। অনন্যোপায় হয়ে অনেককেই অতিরিক্ত টাকা দিয়ে কিনতে হয় টিকিট। সরকারিভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও যথাযথভাবে কার্যকরী হয় না অসত্ কর্মকর্তাদের অনিয়ম ও নজরদারির অভাবে। এখানে নেই যেন কোনো প্রতিরোধের ব্যবস্থা। এ অবস্থায় পরিবহন কর্তৃপক্ষকে পূর্বে টিকিট বিক্রয় বন্ধ ঘোষণা করে সারা বছর নির্ধারিত মূল্যে টিকিট বিক্রয় করতে হবে এমন বিধান জারি এবং এইগুলো বাস্তবায়ন করার জন্য পরিবহন কাউন্টারগুলোতে পুলিশী নজরদারির ব্যবস্থা গ্রহণ করে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি ভাড়া আদায়কারীকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলেই বন্ধ করা সম্ভব হবে এসব পরিবহন দুর্নীতি।
n লেখক :শিক্ষার্থী, ইংরেজি বিভাগ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
