ঠাকুরগাঁও-২ আসন

আওয়ামী লীগের ভাইয়েরা কখনো ভয় করবেন না: বিএনপি নেতা

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩:৪৪

ঠাকুরগাঁও-২ আসনে বিএনপির এক নেতার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আওয়ামী লীগের সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি ভোটের সঙ্গে ‘নিরাপত্তা’ ও ‘সম্পর্ক উন্নয়নের’ বিষয়টি যুক্ত করে কথা বলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার জাওনিয়া বাজারে এক পথসভায় এসব কথা বলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক টি এম মাহবুবুর রহমান। 

একটি ভিডিওতে টি এম মাহবুবুর রহমানকে বলতে শোনা যায়, ‘আওয়ামী লীগের যে ভাইয়েরা ভয়ভীতির মধ্যে বাইরে আছেন, আমরা তাদের নিরাপত্তা বিধান করতে চাই। এই নিরাপত্তা হবে আমাদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের মধ্য দিয়ে। আমাদের সঙ্গে আপনারা ভোট করবেন, ভোট করলে সম্পর্কের উন্নয়ন হবে। আর কোনো ঝামেলা হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘দল হিসেবে ক্ষমতায় আসবে বিএনপি। জামায়াতে ভোট দিলে আমাদের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যাবে। আওয়ামী লীগের ভাইয়েরা কখনো ভয় করবেন না। ভবিষ্যতে ক্ষমতায় গেলে এই আসনের কোনো মানুষ রাজনৈতিকভাবে হয়রানির শিকার হবে না।’

একই উপজেলার কাশিডাঙ্গা এলাকায় আরেকটি সভায় ওই বিএনপি নেতা বলেন, ‘৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আমরা মামলা করতে পারতাম। কিন্তু করিনি। আমরা শুরু থেকেই বলেছি, যে দলই করুক, আমরা অন্যায় করব না। বিএনপি ক্ষমতায় এলেও অন্য দলের লোকজন যেন রাজনৈতিক হয়রানির শিকার না হয়, সেই সংস্কৃতি আমরা গড়ে তুলতে চাই।’

তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা উদ্যোগ নিয়েছেন এবং বাইরে থাকা লোকজনকে ফিরে এসে তাদের সঙ্গে থেকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

কাশিডাঙ্গার সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে টি এম মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘এই এলাকার আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াত—সবাই ধানের শীষে ভোট দেবেন। তা না হলে অতীতের শত্রুতা আরও তীব্র হয়ে যাবে। সম্পর্কের উন্নয়নের জন্য সবাইকে একসঙ্গে ভোট করতে হবে।’

তার এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ভোটের সঙ্গে চাপ বা পরোক্ষ হুমকির ইঙ্গিত রয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়।

এ বিষয়ে টি এম মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমরা প্রতিহিংসামুক্ত, সম্প্রীতির সমাজ গড়তে চাই। যেখানে সব দলের মানুষ একসঙ্গে এলাকার উন্নয়নে কাজ করবে। সেই কথাই বলতে গিয়ে আমি এসব কথা বলেছি। এলাকার উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে চললে ক্ষতি কী? এখানে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই।’

ইত্তেফাক/এএম